ইটনায় উজ্জল হত্যা মামলা: আসামিদের ভয়ে বাদী পক্ষ এলাকা ছাড়া, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

    • প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ০৪:২৭
    • আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ০৪:২৭
    WhatsApp Image 2026-09-23 at 2.36.35 PM

    স্টাপ রিপোর্টার:

    কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার রায়টুটি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. উজ্জল মিয়া হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী মোশাররফ হোসেনসহ নিহতের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, মামলা তুলে নিতে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।নিহত উজ্জল মিয়া রায়টুটি ইউনিয়নের বাসিন্দা। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষের পর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

    যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৩ মে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উজ্জল মিয়া ও রায়টুটি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলামের পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উজ্জলসহ তার পক্ষের কয়েকজন আহত হন।এ ঘটনায় উজ্জল মিয়া বাদী হয়ে গত ১ জুন ইটনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ইটনা থানার মামলা নম্বর-০২।অভিযোগ রয়েছে, মামলা দায়েরের পরদিন রাত ১০টার দিকে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে উজ্জল মিয়াকে একটি মসজিদের সামনে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন তার ওপর হামলা চালায় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।হামলায় গুরুতর আহত উজ্জলকে প্রথমে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


    আদালতের নির্দেশে হত্যা মামলা:উজ্জলের মৃত্যুর পর তার ভাগিনা মোশাররফ হোসেন ইটনা থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণ করা হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। পরে গত ২৬ জুন কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে ইটনা থানায় মামলাটি রুজু হয়। মামলার নম্বর-১০(৬)২৬।অন্যদিকে, উজ্জল নিহত হওয়ার কিছুদিন পর তার এক চাচাতো ভাইকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ইটনা থানায় পৃথক একটি মামলা হয়। মামলার নম্বর-১১/৭৮, তারিখ ২৭ জুন ২০২৬।


    বাদী পক্ষের ওপর ফের হামলার অভিযোগ:

    এদিকে মামলাগুলো নিয়ে বিরোধের মধ্যে গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে নিহত উজ্জলের হত্যা মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন ও তার আত্মীয়-স্বজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে রফিকুল ইসলামের লোকজনের বিরুদ্ধে।পরিবারের দাবি, ওই হামলায় মোট ১২ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে আহতদের মধ্যে তিনজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।


    ‘মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে’

    হত্যা মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন বলেন,

    “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আমার মামা উজ্জল মারা যান। তার মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করার পর থেকেই রফিকুলের লোকজন আমাকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। বিষয়টি ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। কিন্তু আমরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। বর্তমানে রফিকুল ও তার লোকজনের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছি।”নিহত উজ্জলের স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামীকে রফিকুলের লোকজন মারধর করেছে। এখন তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদেরও বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার কোনো ছেলে নেই। তিন মেয়েকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”


    অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

    অভিযোগের বিষয়ে মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

    পুলিশের বক্তব্য

    এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) নাজমুস সাকিব বলেন, “ইটনা থানার রায়টুটি ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছেন। এখনো পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তদন্তে যারা জড়িত বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    নিহত উজ্জলের পরিবার ও হত্যা মামলার বাদী পক্ষের দাবি, একের পর এক হামলা ও হুমকির কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে বাড়িঘর ছেড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।

    Ad