পাবনায় বিদ্রোহীর আগুনে পুড়লো বিএনপির দুই হেভিওয়েটের কপাল।
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রতিনিধিঃ লাবলু বিশ্বাস
পাবনার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের উত্থানে বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থী পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেলেন। পাঁচটি আসনে ২৮ জন প্রার্থী অংশ নিলেও সবচেয়ে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় পাবনা-৩ এবং পাবনা-৪ আসনে—যেখানে দলের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটব্যাঙ্কে বড় ধাক্কা দেন দলীয় মনোনীতদের।
পাবনা-৩ আসনে কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনকে স্থানীয় নেতাদের একাংশ শুরু থেকেই ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে বর্জনের ঘোষণা দেয়। দল মনোনয়ন পরিবর্তন না করায় সাবেক এমপি কেএম আনোয়ারুল ইসলাম ঘোড়া প্রতীকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন। এতে বিভক্ত হয়ে যায় বিএনপির ভোট, আর এর সুযোগ নিয়ে বড় ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন জামায়াতের আলী আছগার। তুহিন পরাজয়ের পর পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন, গণনায় অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
একই ধরনের চিত্র দেখা যায় পাবনা-৪ আসনেও। মনোনয়ন পান দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব। কিন্তু ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ভাগ হয়ে যায় দলীয় ভোট। ফলস্বরূপ দাড়িপাল্লা প্রতীকের জামায়াত প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডল ফাঁক গলে বিজয়ী হন। তিনিও পুনর্গণনার আবেদন দাখিল করেছেন।
এই দুই আসনে BNP–Jamaat মুখোমুখি লড়াইয়ে বিদ্রোহীদের কারণে প্রথমবারের মতো জয় পায় জামায়াতে ইসলামী। জেলা বিএনপি বলছে, বিদ্রোহীদের আচরণই পরাজয়ের মূল কারণ, তবে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের কারসাজি ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে খানিকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে পাবনা-৫ আসন। সেখানে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। মন্ত্রিত্বের সম্ভাবনায় তাকে ঘিরে আশাবাদী তার সমর্থকরা। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনেও যথাক্রমে জামায়াতের নাজিবুর রহমান মোমেন এবং বিএনপির কেএম সেলিম রেজা হাবিব বিজয়ী হন।
পাবনার পাঁচটি আসনের নির্বাচনি ফলাফলে স্পষ্ট—বিদ্রোহীদের কারণে বিএনপি তাদের নিশ্চিত বলে ভাবা দুটি আসন হারিয়েছে, আর সেই লাভ লুফে নিয়েছে জামায়াত।



