তাপদাহ বৃদ্ধির কারণে ঈশ্বরদী লিচু চাষিরা দুশ্চিন্তায়
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রতিনিধিঃ লাবলু বিশ্বাস
লিচুর জন্য দেশজুড়ে পরিচিত পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় টানা তাপদাহে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। গত দুই সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮, ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করায় লিচুর গুটি ঝরে পড়ার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তীব্র গরম ও খরার প্রভাবে একদিকে যেমন জনজীবন বিপর্যস্ত, অন্যদিকে লিচু বাগানগুলোতে দেখা দিয়েছে উৎপাদন সংকটের আশঙ্কা। গাছে গাছে মুকুল ভালো থাকলেও অতিরিক্ত গুটি ঝরে পড়ায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। সরেজমিনে উপজেলার মিরকামারী, জয়নগর, মানিকনগর, বক্তারপুর, জগন্নাথপুর, চরসাহাপুর, সাহাপুর, আওতাপাড়া ও বাঁশেরবাদা এলাকায় ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। জয়নগর গ্রামের লিচু চাষি সুজন হোসেন বলেন, বছরের শুরুতে গাছে ভালো মুকুল এসেছিল। আশা ছিল আগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে। কিন্তু চলমান খরায় গুটি ঝরে পড়ায় আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।জয়নগর শিমুলতলা বাজারের লিচু ব্যবসায়ী শামসুল সরদার জানান, ঈশ্বরদীর লিচুর গুণগত মান ভালো হওয়ায় সারা দেশেই এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। গত বছর বাম্পার ফলন হয়েছিল। তবে এবার তীব্র গরমে গুটি ঝরে পড়ায় বাজার পরিস্থিতি নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।বর্তমানে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে চাষিরা বাগানে নিয়মিত স্প্রে ও সেচ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অনেক চাষির অভিযোগ, সময়মতো জ্বালানি তেল না পাওয়ায় সেচ দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে প্রায় ৩১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। তবে বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ৩০ শতাংশের বেশি কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এপ্রিলের শুরু থেকেই তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি রয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহে তা আরও বাড়তে পারে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মোমিন বলেন, শুরুতে গাছে ভালো মুকুল ছিল, কিন্তু তীব্র দাবদাহে গুটি ঝরে পড়ছে। কৃষকদের নিয়মিত পরিচর্যা ও সেচ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আবহাওয়া অনুকূলে না এলে দেশের অন্যতম লিচু উৎপাদন অঞ্চল ঈশ্বরদীতে বড় ধরনের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



