নওগাঁয় ‘সারেগামা সংগীত ভুবন’-এর আয়োজনে মনোজ্ঞ ‘হারানো দিনের সংগীত সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠিত

    • প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ০৪:২৯
    • আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ০৪:২৯
    WhatsApp Image 2026-08-29 at 12.20.23 PM

    ​সাইফুল ওয়াদুদ,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:

    নওগাঁয় সুরের মূর্ছনা আর আবহমান বাংলার ধ্রুপদী সংগীতের আবহে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক মনোজ্ঞ সংগীত সন্ধ্যা। "সারেগামা সংগীত ভুবন, নওগাঁ"-এর পরিচালনায় আয়োজিত এই ‘হারানো দিনের সংগীত সন্ধ্যা’ সুরপ্রেমীদের মনে এক অনন্য অনুভূতির সৃষ্টি করে। ​শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) বিকেল ৪:০০ টা থেকে রাত ৯:৩০ টা পর্যন্ত নওগাঁ জেলা শহরের বইপট্টি (সাবেক জয় কালীর মোড়) এলাকার ‘হোটেল আয়োজন’-এর কমিউনিটি সেন্টারে জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনের সূচনা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা এবং যন্ত্রসংগীতের দিকনির্দেশনায় ছিলেন সংগীতাচার্য ও গুরু অপূর্ব কুমার দাস। তাঁর নির্দেশনায় ও সহশিল্পীদের বাদ্যযন্ত্রের মনমুগ্ধকর ঝংকারে অনুষ্ঠানটি উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের গভীর আনন্দ দেয়। ​অনুষ্ঠানটি কেবল সংগীত পরিবেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা পরিণত হয়েছিল সংগীতের গুরু-শিষ্য, অভিভাবক এবং সংগীতপ্রিয় অগণিত মানুষের এক মিলনমেলায়। একের পর এক হারানো দিনের জনপ্রিয় গান ও সুরের আবহ শ্রোতাদের নস্টালজিক করে তোলে। ​অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে উপস্থিত সবার দৃষ্টি কাড়ে কোমলমতি শিশু শিল্পীরা। প্রতিভাবান শিশু শিল্পী ও নওগাঁ শাহীন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র পার্বন দেবনাথ তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলে, "গুরু অপূর্ব কুমার দাস স্যার অত্যন্ত যত্ন ও স্নেহের সাথে আমাদের সংগীত শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও অনুপ্রেরণার কারণেই আজ এত বড় একটি চমৎকার মঞ্চে সুন্দরভাবে পারফর্ম করতে পেরেছি। আমরা তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।" ​পরিবারের সকলকে সাথে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল আরেক কনিষ্ঠ শিশু শিল্পী, নওগাঁ ন্যাশনাল মডেল স্কুলের প্লে শ্রেণির ছাত্র অর্পণ মণ্ডল। বাবা, মা, মামা, মামি ও মামাতো ভাই-বোনদের নিয়ে সুরের ভুবনে উপস্থিত হতে পেরে উচ্ছ্বসিত অর্পণ জানায়, গুরু অপূর্ব কুমার দাসের প্রতি তার রয়েছে অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। এত সুন্দর ও আনন্দঘন একটি আয়োজনের অংশ হতে পেরে সে ভীষণ আনন্দিত। ​অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক ও সুধীজনেরা এমন আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা জানান, বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুদের অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রেখে এমন শুদ্ধ ও হারানো দিনের সংগীতে চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা সত্যিই প্রশংসনীয়। রাত সাড়ে নয়টায় উপস্থিত দর্শক ও শ্রোতাদের করতালির মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর এই আনন্দ সন্ধ্যার সমাপ্তি ঘটে।

    Ad