আত্মপ্রকাশ করলো “ সবার জন্য বাংলাদেশ” সংগঠনের
নিজস্ব প্রতিবেদক:
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, শনিবার
‘আর নয় বিদ্বেষ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগানে আত্মপ্রকাশ করলো ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’
৬০ টি সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার দায়িত্বশীল দেশপ্রেমিকদের সম্মতিক্রমে বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম-কে আহ্বায়ক করে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ নামে একটি নতুন অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও অসাম্প্রদায়িক সংগঠনের ঘোষণা করেণ।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক প্রতিনিধিত্বশীল নাগরিক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সংগঠনের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা করা হয়। ‘আর নয় বিদ্বেষ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে হাজার বছরের সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষার প্রত্যয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী, বিচারক, আইনজীবী, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতা ও পীর-মাশায়েখসহ সর্বস্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এ সংগঠনে যুক্ত হয়েছেন।
সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি এমদাদুল হক আজাদ, দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজ প্রমুখ।
ডা. মাহবুব আলম মাহফুজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নবগঠিত সংগঠনের আহ্বায়ক ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম সমাজে সহিংসতা ও উগ্রবাদের বিস্তারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং এটি বিভিন্ন জাতিসত্তা, ধর্ম ও সংস্কৃতির দীর্ঘ সহাবস্থানের এক সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার। তবে বর্তমানে বৈশ্বিক উগ্রবাদের প্রভাবে দেশে নারী ও ভিন্নমতের মানুষের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ধর্মীয় হুজুগ তুলে সুফি মাজার, দরগাহ ও খানকায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে এবং ভাস্কর্য ও ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমন উগ্রবাদী তৎপরতা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিল্পকলা ও গণমাধ্যম কার্যালয়ও রক্ষা পাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, রাজধানী ঢাকা এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অনিরাপদ শহরে পরিণত হয়েছে, যার ফলে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। তাই এ পরিস্থিতিতে নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা বজায় না রেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণফোরামের সভাপতি এড. সুব্রত চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ জাসাসের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, সাবেক সচিব কাসেম মাসুদ, মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর পুত্রবধু পারভীন নাসের খান ভাসানী, ডঃ জমিরুল আকতার, প্রখ্যাত সুফিবাদী বাউল শিল্পী লতিফ সরকার, বাংলাদেশ মানবাধিকার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শ্রী মনিন্দ্র কুমার নাথ, মুসলিম লীগের সভাপতি এড. মহসিন রশীদ, বাউল শিল্পী ফকির আবুল সরকারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কোনো একক ধর্ম বা গোষ্ঠীর নয় উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দেশের সব নাগরিককে সাথে নিয়ে এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিষ্টানসহ সব মতের মানুষ সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা পেয়ে বসবাস করতে পারবেন। দেশের বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দিয়ে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।



