Barind Project জলবাযু সহনশীলতা, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা এবং উদ্ভাবনী উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে “বরেন্দ্র এলাকা স্থিতিস্থাপক ও উদ্ভাবনী উন্নয়ন (BARIND)” প্রকল্পের সূচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে
Barind Project জলবাযু সহনশীলতা, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা এবং উদ্ভাবনী উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে “বরেন্দ্র এলাকা স্থিতিস্থাপক ও উদ্ভাবনী উন্নয়ন (BARIND)” প্রকল্পের সূচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৫জুন) ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার মডেলিং (IWM) এর আয়োজনে রাজশাহীর স্থানীয় চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এই সূচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃক্ষের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ জনাব মোঃ হাসান জাফির তুহিন, কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন বিএমডিএ‘র নির্বহী পরিচালক জনাব আবু সাঈদ মোঃ কামরুজ্জামান, এনডিসি, (অতিরিক্ত সচিব)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে বলেন সর্বপ্রথমে আমি স্মরণ করছি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাহসী মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশের শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে, আমি স্মরণ করছি তাঁর বিশিষ্ট স্ত্রী, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে। আমি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি আমাকে বিএমডিএ‘র চেয়ারম্যানের দায়িত্বে সম্মানিত করেছেন। আমি ধন্যবাদ জানাই মরহুম আসাদুজ্জামান স্যার কে যিনি এ বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দিনরাত পরিশ্রম করে গেছেন। তিনার চেষ্টার ফলে আজ বরেন্দ্র এক ফসল থেকে তিন ফসলে পরিণত হয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান প্রতিনিয়ত কৃষিতে কিভাবে পরিবর্তন নিয়ে আসা যাবে তার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আধুনিক কৃষি ও কৃষকের জন্য যা বাজেট প্রয়োজন তিনি দিতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্যতা করবেন না, কিন্তু একটাই নিদেশ কৃষকের যেন ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। বরেন্দ্র অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিকূল কৃষি-পরিবেশগত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত। বিগত দশক গুলোতে কৃষি উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য সত্ত্বেও, এই অঞ্চলটি জলবায়ূ পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস, বারবার খরা, ভূমি অবক্ষয় এবং পানি সম্পদের উপর ক্রমবর্ধমান চাপের মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার দেশব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীলতা তৈরিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বারিন্দ প্রকল্পটি টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে এই জাতীয় অগ্রাধিকারগুলো অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কৃষিকে আরো লাভজনক করা যার এবং অল্প খরচে সাধারণ মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়া যায়। এডিবি, ওডগ এবং বিএমডিএ এর যৌথ উদ্যোগে গৃহীত এই প্রকল্প বারিন্দ অঞ্চলের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রকল্পটি পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি টেকসই উন্নয়ন মডেল প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। সরকার কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিএমডিএ বারিন্দ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। আমি আশা করি, সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই প্রকল্প সফল ভাবে বাস্ত বায়িত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বরিন্দ অঞ্চল গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।সভাপতি তার বক্তব্য বলেন, আজকের এই উদ্বোধনী কর্মশালা আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। “বারিন্দ অঞ্চল স্থিতিস্থাপক ও উদ্ভাবনী উন্নয়ন (বারিন্দ) প্রকল্প কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়। এটি বারিন্দ অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তা, কৃষি উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত উদ্যোগ। বিএমডিএ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বারিন্দ অঞ্চলের কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করে আসছে। পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতিতে আমাদের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, দক্ষ এবং টেকসই করতে হবে। এই প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। আমি এডিবি, IWM এবং বিএমডিএ এর সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রকল্প বারিন্দ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ সোহেল মাসুদ উপ-নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) IWM, জনাব শিঙ্গো কিমুরা প্রিন্সিপাল ন্যাচারাল রিসোর্সেস আন্ড এগ্রিকালচারাল ইকোনমিস্ট, এডিবি, ড. চৌধূরী সারোয়ার জাহান ভূতত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক উপ-উপাচার্য রাবি, ড. তাকাশি ইয়ামানো প্রিন্সিপাল ইকোনমিস্ট এডিবি, ড. মোঃ নেয়ামুল বারি, প্রফেসার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার রুয়েট, অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী ড. মোঃ আবুল কাসেম,কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনাব মোঃ হারুন-অর-রশিদ নির্বাহী প্রকৌশলী, বিএমডিএ সদর দপ্তর এবং বারিন্দ প্রকল্পের ফোকাল পার্সন তিনি বলেন, আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে আপনাদের উপস্থিতি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও অনুপ্রেরণার বিষয়। বারিন্দ অঞ্চল দেশের অন্যতম খরা-প্রবণ এলাকা। এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন, পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বিএমডিএ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বান্তবায়নের অংশ হিসেবে আমরা কৃষকবান্ধব ও টেকসই সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আজকের এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো অভিজ্ঞতা বিনিময়, বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কার্যকর সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মকর্তাগণ সহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্টেট হোল্ডারগট কর্মশালায় উপস্থিত হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন । BMDA, ADB, DASCO, RUET, LGED, BWDB.WARPO, MOF, MOA এর প্রতিনিধি কৃষি সম্পসারন ও কৃষকসহ ৭০ জন উপস্থিত কর্মশালার ছিলেন।



