নিরঙ্কুশ জয়ে সরকার গঠনে বিএনপি: টেকনোক্র্যাট কোটায় চমক, ৩২–৪২ সদস্যের মন্ত্রিসভা প্রস্তুত

  • প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিকাল ০৭:৪৫
  • আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিকাল ০৭:৪৫
Screenshot_1

ডেস্ক রিপোর্ট:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে ৩২ থেকে ৪২ সদস্যের একটি কার্যকর ও ‘কমপ্যাক্ট’ মন্ত্রিসভা গঠনের চিন্তাভাবনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। এর মধ্যে সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ এক-দশমাংশ সদস্য টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।


দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে একাধিক দফা পরামর্শ শেষে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের একটি প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করেছেন বলে জানা গেছে। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের ২ ধারায় বলা হয়েছে, মোট মন্ত্রীর অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে হবে এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মনোনীত করা যাবে। সে হিসাবে মন্ত্রিসভা ৪০ সদস্যের হলে টেকনোক্র্যাট কোটায় সর্বোচ্চ চারজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব।


দলীয় সূত্রে জানা যায়, টেকনোক্র্যাট কোটায় শপথ নিতে পারেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান। তারা বর্তমানে সংসদ সদস্য না হলেও দীর্ঘদিন ধরে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয়।


এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ আরও কয়েকজন নেতা। তাদের কেউ মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে দায়িত্ব পেতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে।


নির্বাচিত এমপিদের মধ্যেও জোর আলোচনা নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্য থেকে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির, আমানউল্লাহ আমান, আসাদুল হাবিব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুলসহ একাধিক নেতার নাম মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।


এছাড়া সাবেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে নুরুল ইসলাম মনি, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মজিবর রহমান সরওয়ার, এবিএম মোশাররফ হোসেন, জহির উদ্দিন স্বপন, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখের নামও ঘুরছে আলোচনায়।


দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—এমন জোর আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের গুঞ্জনও রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।


সরকার গঠনে শরিক দলগুলোকেও প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। এ প্রেক্ষাপটে আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি এবং নুরুল হক নুর মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। এমনকি নির্বাচনে পরাজিত হলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মাহমুদুর রহমান মান্নার নামও আলোচনায় রয়েছে।



দলীয় নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে রাজনৈতিক ভারসাম্যের পাশাপাশি প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা ও জনগ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থনীতি, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই টেকনোক্র্যাট কোটায় বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


সবকিছু ঠিক থাকলে শপথগ্রহণের দিনই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার তালিকা প্রকাশ করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত এই মন্ত্রিসভা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই এখন দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে।

Ad