টঙ্গীতে ইমাম গুমের নিন্দা ও উগ্র ইসকন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান — ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ
ইমদাদুল হক,ঢাকা:
গাজীপুরের টঙ্গী মরকুন এলাকার বিটিসিএল টিএন্ডটি কলোনি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মুহিবুল্লাহ মিয়াজীকে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। জানা গেছে, তিনি জুমার খুতবায় উগ্র হিন্দুত্ববাদের বিরূদ্ধে এবং ভাগওয়া ট্র্যাপের ফাঁদে মুসলিম তরুণীদের ইজ্জতের উপর আঘাত হানার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়্ব বক্তব্য প্রদান করায় একাধিক হুমকির চিঠি পান। একপর্যায়ে তাঁকে গুম করে গাজীপুর থেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। অবশেষে সীমান্তবর্তী পঞ্চগড়ে তাঁকে হাত-পা বাঁধা ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, শরীরে নির্যাতনের অসংখ্য চিহ্নসহ। এই নৃশংস ঘটনাটি মানবতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর ভয়াবহ আঘাত।
ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী ও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাআদ বিন জাকির গণমাধ্যমকে জানান, “একজন ইমাম বা আলেমের ওপর হামলা মানে ইসলামী মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐক্যের ওপর হামলা। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং দাবি জানাচ্ছি—গুম ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। দেশের সকল ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, ইমাম ও আলেমদের নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্রকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ মনে করে, দেশে ও দেশের বাইরে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ইসকন চক্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে অপতৎপরতায় লিপ্ত। “মন্দির” ও “সংস্কৃতি কেন্দ্র” নামের আড়ালে তারা জমি দখল, সংগঠিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মুসলিম বিদ্বেষী প্রচারণা চালাচ্ছে। ভারতের আরএসএস–প্রভাবিত নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে ঘৃণার বীজ বপনের মাধ্যমে সমাজে বিভাজন ও সংঘাত উসকে দিতে সক্রিয় রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, দেশের শান্তিপ্রিয় সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের জন্যও গভীর হুমকি
একই সঙ্গে আমরা উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি যে বিভিন্ন সূত্র ও প্রতিবেদন অনুযায়ী উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেটওয়ার্কগুলো পরিকল্পিতভাবে এবং টার্গেট করে মুসলিম কিশোরী ও যুবতীদের সম্ভ্রম নষ্ট করে তোলার জঘন্য অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে; তাঁরা প্রেমফাঁদ, বিভিন্ন প্রলোভন ও ধর্ষণের মাধ্যমে সমাজের ভারসাম্য নষ্ট করে চলেছে। এমন সন্ত্রাসমুখী আচরণ জাতীয় নিরাপত্তা, নৈতিকতাবোধ ও মানবাধিকার বিনষ্ট করে। ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ কঠোরভাবে এই ঘৃণ্য পরিকল্পনার নিন্দা জানায় এবং দুর্বল ও সম্ভাব্য ভিকটিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অবিলম্বে তদন্ত, সশস্ত্র হেফাজত ব্যবস্থা ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।
ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ বিশ্বাস
করে—ইসকন ও আরএসএসের মতো উগ্রবাদী সংগঠনগুলো মুসলিম ও সনাতন উভয় সম্প্রদায়ের শত্রু। তাই সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি রক্ষার্থে দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধভাবে এদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গুজব নয়, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকতে হবে।
ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হচ্ছে—অন্তর্বর্তী সরকারকে অবিলম্বে ঘটনাটির স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেটওয়ার্কের বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড দমনে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।


