জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন সম্ভব না : মাসুদ কামাল
বিশেষ প্রতিনিধি:
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, ‘জুলাই সনদ একটা হবে হয়তো বা, কিন্তু জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন সম্ভব না। এটা একদম অ্যাবসার্ড, কারণ জুলাই সনদে অনেক কিছু থাকবে।’ কালের কণ্ঠের টক শো অনুষ্ঠান কালের সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
মাসুদ কামাল বলেন, ‘জুলাই সনদের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচন হওয়া এনসিপির প্রধান দাবি।
তারা বলছে জুলাই সনদের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচন হতে হবে, সংবিধান চেঞ্জ হবে। এটা আপনি পারবেন না। কারণটা বলি— ৫ আগস্ট একটা জুলাই ঘোষণাপত্র হয়েছে, মনে আছে নিশ্চয়ই! ওই ঘোষণাপত্রের ২০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, এই সরকার একটা সাংবিধানিক সরকার। এখন এটা যদি সাংবিধানিক সরকার হয়, সেই সরকারের প্রধান কাজ সংবিধানকে সমুন্নত রাখা।
’
তিনি বলেন, ‘যদি আপনি সংবিধানকে সমুন্নত রাখেন, তাহলে আপনি সংবিধান এভাবে পরিবর্তন করতে পারবেন না। কারণ সংবিধানকে পরিবর্তন করতে হলে আপনাকে কিন্তু জাতীয় সংসদে যেতে হবে, সংসদ তো হয় নাই। ফলে সংসদ হওয়ার আগে সংবিধান চেঞ্জ করতে পারবেন না। যদি কেউ পরিবর্তন করে তাকে পরবর্তী সরকার আসলে কেউ মামলা করবে বা সুপ্রিম কোর্ট নিজেই ডেকে বলবে— তুমি এটা কেন করলা! সংবিধান কীভাবে লঙ্ঘন করলা!’
পিআর এবং জুলাই সনদকে রাজনৈতিক দাবি উল্লেখ করে মাসুদ কামাল বলেন, ‘রাজনৈতিক দাবি থাকা কিন্তু অন্যায় না, এটা স্বাভাবিক।
একটা রাজনৈতিক দল মানুষের কাছে যাবে, কী নিয়ে যাবে? একটা কোনো বক্তব্য তো থাকবে। তারা পিআর বক্তব্যটা নিয়ে আসছে; মানুষের কাছে শব্দটা পরিচিত করাচ্ছে। আমার ধারণা খুব শিগগিরই জামায়াতে ইসলাম অথবা ইসলামী আন্দোলন পিআর নিয়ে বুকলেট বানিয়ে মানুষকে দেবে। এটা খারাপ না।’
মাসুদ কামাল বলেন, ‘পিআর না হলে তারা নির্বাচনে যাবে না, এটা আমি মনে করি না।
জামায়াতে ইসলাম একবারও বলেনি যে পিআর না হলে তারা নির্বাচন করবে না। ইসলামী আন্দোলন দুই-একবার বলেছে, কিন্তু জামায়াতে ইসলাম একবারও বলেনি। নির্বাচনের ক্ষেত্রে পিআর আলোচিত বিষয় হবে কিন্তু আপনি নিশ্চিত থাকেন এটার ওপর নির্বাচন হওয়া না হওয়া নির্ভর করবে না।’
মাসুদ কামাল বলেন, ‘আপনি ১০৬ দিয়ে অনেক আলোচনা করতে পারেন কিন্তু আপনি তো মেনে নিয়েছেন যে আপনি সংবিধানের আলোকেই সরকার গঠন করেছেন। আপনি যদি শুরুতেই বলতেন এই সংবিধান স্থগিত; সাধারণত সামরিক আইন প্রণয়নের সময় যে কাজটা সাধারণত করে যে সংবিধানকে স্থগিত করে দেয়, তারপর যা ইচ্ছা করে। পরবর্তী সময় সংসদ আসলে সেটাকে রেটিফাই করে, একটা পদ্ধতি আছে।’
জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক আরো বলেন, ‘তো এই সংবিধানকে কিন্তু তারা স্থগিত করেনি, বাতিল করেনি। বরং তারা বলছে— এই সংবিধানের মাধ্যমে আমরা ক্ষমতায় আসছি। তো সংবিধানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে আপনি কেন সংবিধান লঙ্ঘন করবেন! ঝামেলায় পড়বেন কিন্তু। ইতিমধ্যে অনেকে ঝামেলায় পড়ে গেছে, এক উপদেষ্টা শপথ নিয়েই বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়েছে। সে সংবিধানবিরোধী কাজ করেছে তো। সরকার পরিবর্তন হলেই এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে মামলা হবে। তিনি তো এই ছবি নামাতে পারেন না, কারণ যে সংবিধানের আলোকে তিনি শপথ নিয়েছেন, সেই সংবিধানে আছে বঙ্গবন্ধুর ছবি ওখানে থাকবে। কারো ব্যক্তিগত পছন্দ এখানে কাজ করবে না।’


