মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব: আশুলিয়ায় পেট্রোল সংকট, বন্ধ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন
আলমাস হোসাইন | স্টাফ রিপোর্টার
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ধীরে ধীরে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়তে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় পেট্রোলের সংকট দেখা দেওয়ায় কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা।
শনিবার সকালে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পেট্রোলের সরবরাহ না থাকায় বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নবীনগর ফিলিং স্টেশন, আজিজ ফিলিং স্টেশন ও টিএস ফিলিং স্টেশন। এসব পাম্পে “তেল নেই” লেখা নোটিশ টানিয়ে সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে পেট্রোলের সরবরাহ স্বাভাবিক নেই। নির্ধারিত সময়েও জ্বালানি না পৌঁছানোয় বিক্রি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে কিছু স্টেশন সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।
হঠাৎ জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। সকাল থেকে বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকেই পেট্রোল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে কর্মস্থলে যাতায়াতসহ দৈনন্দিন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
টিএস ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক মনিরুল ইসলাম বলেন, “সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা পোস্টার লাগানো। কখন তেল আসবে সেটাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন পাম্পে বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল চালক জ্বালানির আশায় ভিড় করছেন। অনেকেই পাম্পের সামনে অপেক্ষা করছেন, আবার কেউ কেউ এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পেট্রোলের সন্ধানে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সামনে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়বে। তখন দূরপাল্লার যানবাহন ও গণপরিবহন চলাচলেও সংকট দেখা দিতে পারে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হলে ব্যক্তিগত যানবাহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও প্রভাব পড়তে পারে, যা শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।



