নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ২ জনের ফাঁসি বহাল রাখলেন হাইকোর্ট

  • প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ০৫:২২
  • আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ০৫:২২
WhatsApp Image 2026-08-24 at 4.16.13 PM

জিএম মাকছুদুর রহমান:

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা পরিবর্তন করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (২৪ আগস্ট) এই রায় ঘোষণা করেন। নতুন এই রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম, এই দুইজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার অন্য চার আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ জন আসামিকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।​আদালতে আসামিদের পক্ষে আইনি শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। অপরপক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রূহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ এজাজ কবির। এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ মোট ১৬ জন আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।​মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতকে শ্লীলতাহানি করেন। এই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে নুসরাতকে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য চরম চাপ দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এর জের ধরে ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল নুসরাতকে পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তিনি মারা যান। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

Ad