সম্পদের আলামত মুছার চেষ্টা গণপূর্তের সাইফুরের

  • প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ০৬:৫৩
  • আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ০৬:৫৩
WhatsApp Image 2026-09-14 at 6.50.28 PM

দুর্নীতির নতুন সম্রাটের সন্ধান, পর্ব-৩

মো. আলমগীর হোসেন:

সাইনবোর্ডে থাকা প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা মুছে নিজের দুর্নীতি আড়ালের ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সাইফুর। গত ২০ আগষ্ট ২০২৬ এবং ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে-দৈনিক ভোরের সময়ে "খুলনা গণপূর্তের সাইফুরের অঢেল সম্পদের সন্ধান, প্রশ্নবিদ্ধ প্রশাসন" ও "দুর্নীতির নতুন সূত্র আবিস্কারক গণপূর্তের সাইফুর" শিরোনামে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের দুটি পর্ব প্রকাশিত হয়। তারই সূত্র ধরে, ওই সম্পদ যে সাইফুরের সেই আলামত মুছে ফেলার লক্ষ্যে এবং নামে বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সাইফুরের সম্পর্ক আছে সেটা গোপন করার উদ্দেশ্যে সাইনবোর্ডে লিখা নাম সরিয়ে ফেলছে। ইতিমধ্যে, নিজের দুর্নীতি ঢাকতে কাঠবাদাম রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ড সরিয়ে নিয়েছে সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধও করে ফেলেছে। সাধারণ জনগনের প্রশ্ন? যদি সাইফুরের দুর্নীতি না থাকে তাহলে সাইনবোর্ড সরাবে কেন? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা/ কর্মচারীর দাবী দেশের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের উচিত তার বিষয়ে অনুসন্ধান করে আসল ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশ করা। তা নাহলে দিনকে দিন এমন অপরাধ হতেই থাকবে। সেই সাথে গুটিকয়েক অসৎ কর্মকর্তার অপরাধের দায় বর্তাবে সরকারের উপর। যদিও ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কোন ধরনের ছাড় দিতে নারাজ। 

সাইফুর রহমান। ঘুষের টাকায় সম্পদ কিনে দিচ্ছেন ভাই, বোন, শ্বশুর, শাশুড়ী, সালা, শালী ও নিকট আত্মীয়দের নামে। যেন কেউ টের না পায়। গোপন সুত্রে জানা গেছে, চাকরি শেষে সম্পদ ফেরত পাওয়ার নিশ্চায়তায় তাদের সাথে আবার স্টাম্পে দলিলনামাও করেছেন। সূত্রমতে সাইফুরের বেশিরভাগ অর্থ ইতিমধ্যে দেশের বাহিরে পাচার হয়ে গেছে। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তাদের দাবি যে কোন সময় সাইফুর দেশ ত্যাগও করতে পারেন। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আমলে নেওয়া।

মোঃ সাইফুর রহমান গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খুলনা বিভাগীয় প্রধান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। খুলনা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ, তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিসিএস ১৮তম ব্যাচের সদস্য। স্বৈরাচার আমলে আওয়ামী সম্পৃক্ততার পাশাপাশি জিকে শামীম ও গোল্ডেন মনিরের নাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। সে সময়ে আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পোস্টিং বাগিয়ে নিয়ে বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসাসহ বিবিধ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন সরকারি বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা।তিনি সবচেয়ে বেশী অর্থ উপার্জন করেছেন আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন। ওই সময় আজিমপুরে ঠিকাদারী সিন্ডিকেট প্রথা চালু করেছেন এই সাইফুর রহমান- যা এখনো বহাল আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তিনি ১০% পার্সেন্ট ছাড়া কোন ফাইলে স্বাক্ষর করতেন না। অর্থের গরমে তিনি এতটাই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন, সে সময় তার ডিভিশনে কর্মরত একজন মহিলা হিসাব সহকারীকে (নাম গোপন রাখা হলো) জড়িয়ে নানা ধরনের মুখরোচক আলোচনা চাউর হয়ে উঠে। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সক্ষম হন তিনি। এরপর তাকে নৈতিকস্খলনের দায়ে শেরপুর গণপূর্ত বিভাগ বদলী করা হয় বলে বহুল প্রচারিত আছে। অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে সাইফুর রহমানের ঢাকার মোহাম্মদপুর ও মিরপুরে দুটি বিলাশবহুল বাড়ি, পূর্বাচলে প্লট, টাংগাইলের ঘাটাইলে ডুপ্লেক্স বাড়ি, ঘাটাইল বাজার রোডে তিন তলা মার্কেট (যদিও ভাইয়ের নাম বলে তিনি দাবি করেন), সালাউদ্দিন সেনানিবাস মোড়ে আগে এলপিজি ফিলিং স্টেশন বর্তমানে সেটি ভেঙ্গে সোনারতরী পার্ক, অদুরেই ১ কোটি টাকায় কেনা জমিতে কাঠবাদাম রেস্টুরেন্ট, আমেরিকায় ফ্ল্যাট- যেখানে তার মেয়ে থাকে। সবমিলে শতকোটি টাকার অঢেল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে- বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলমান আছে- যা পরবর্তীতে দেশ ও জনস্বার্থে সুদর্শন চেহারার আড়ালে কুৎসিত কর্মকান্ডের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

শুধু তাই নয়- ২৪ এর ছাত্র আন্দোলনে আ’লীগের পক্ষে থেকে গণহত্যায় অর্থ যোগানের নেপথ্যে তার অবদানের কথাও শোনা যায়। এছাড়া গোল্ডেন মনির ও জিকে শামীমের অর্থায়নে হোটেল রেডিসান ও ওয়েস্টিনে ওই সময়ে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।উল্লেখিত বিষয় সম্পর্কে মতামত জানার জন্য একাধিকবার তার মোবাইলে কল করা হলে তিনি নিজে ফোন রিসিভ না করে অন্য একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। চলবে---

Ad