কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কারিগরি সমন্বয় কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কারিগরি সমন্বয় কমিটির দ্বিতীয় সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।গতকাল (বুধবার) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর ২০২৬ তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় ৩১তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩১)-এ বাংলাদেশের কার্যকর ও সফল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই সভা অনুষসভায় কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় দেশের অবস্থান নির্ধারণ, বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন স্থাপন, সাইড ইভেন্ট আয়োজন এবং প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণসংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করাএর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কারিগরি সমন্বয় কমিটির প্রথম সভায় কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রস্তুতি কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) আলোচ্যসূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের খসড়া পজিশন পেপার প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ন্যায্য রূপান্তর (Just Transition), ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (CBAM), আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনভিত্তিক কারিগরি প্রতিবেদন ও পলিসি ব্রিফ প্রস্তুতের সিদ্ধানআন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কার্যকরভাবে তুলে ধরতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট (LDC Group), উন্নয়নশীল দেশসমূহ এবং সমমনা রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে যৌথ অবস্থান গ্রহণের সুযোগ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওকপ-৩১ সম্মেলন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত প্যাভিলিয়নে দেশের জলবায়ু ঝুঁকি, অভিযোজন অভিজ্ঞতা, জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC 3.0), জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP), জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষয়ক্ষতি (Loss and Damage), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কার্বন বাজার, প্রকৃতিনির্ভর সমাধান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগ তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্যাভিলিয়নের নকশা, ব্র্যান্ডিং, প্রদর্শনী উপকরণ, সাইড ইভেন্ট ক্যালেন্ডার ও পরিচালন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কার্যক্রম গ্রএ ছাড়া মূল জলবায়ু আলোচনায় পর্যাপ্ত ও বিষয়ভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, নতুন ও তরুণ কর্মকর্তাদের আলোচনা প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা এবং প্রতিনিধিদলের নিবন্ধন, ভিসা, যাতায়াত, আবাসন ও স্থানীয় সমন্বয়সহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি সমন্বয়ের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ১৮ আগস্ট একটি কারিগরি সমন্বয় কমিটি এবং তিনটি উপকমিটি গঠন করে। উপকমিটিগুলো হলো পজিশন পেপার প্রণয়ন উপকমিটি, প্যাভিলিয়ন স্থাপন ও সাইড ইভেন্ট আয়োজন উপকমিটি এবং লজিস্টিক সাপোর্ট উপকআজকের দ্বিতীয় সভায় তিনটি উপকমিটির কার্যক্রমের অগ্রগতি উপস্থাপনের করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রস্তুতি কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করার বিষয়ে আলোচনা করাউল্লেখ্য, আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় কপ-৩১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের অংশ হিসেবে ১১ ও ১২ নভেম্বর বিশ্বনেতাদের শীর্ষ সম্মেলন (World Leaders’ Summit) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।



