রাজশাহীতে সারের চাহিদা-বরাদ্দে ব্যাপক অসামঞ্জস্য সংকট মোকাবিলায় ডিলারদের ৭ দফা দাবি
সৈয়দ মোঃ মাসুদ:
রাজশাহীতে কৃষকের সংখ্যা চার লাখ ১২ হাজারের বেশি। বিপরীতে সেপ্টেম্বর মাসে পুরো জেলার জন্য টিএসপি সারের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র এক হাজার ৪৫ মেট্রিক টন। এই পরিমাণ সার দিয়ে প্রত্যেক কৃষককে এক বস্তা করে দেওয়া হলে তা পৌঁছাবে মাত্র ২০ হাজার ৯০০ কৃষকের কাছে। কৃষকের প্রকৃত চাহিদার তুলনায় সারের এমন অপ্রতুল বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) রাজশাহী জেলা ইউনিট।রোববার নগরের রেলগেট এলাকার সংগঠনটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য তুলে ধরেন বিএফএ রাজশাহী জেলা ইউনিটের সভাপতি মো. ওছমান আলী।লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজশাহীতে সরকারি গুদামে সারের মজুত নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বাফার ও বিএডিসির গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তবে কৃষকের চাহিদার সঙ্গে সরকারি বরাদ্দের সামঞ্জস্য না থাকায় ডিলার পর্যায়ে চাপ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ বাড়ানোসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।বিএফএর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, কৃষকের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সারের বরাদ্দ বৃদ্ধি, সংকটপূর্ণ এলাকায় দ্রুত উপ-বরাদ্দ, মাছ চাষের পুকুরের জন্য সার বরাদ্দ, অগ্রিম ও অপ্রয়োজনীয় সার ক্রয়ের প্রবনতা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, ডিলারদের কমিশন পুনর্নির্ধারণ, কৃষকদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সার ব্যবহারে পরামর্শ দেওয়া এবং কোন ব্যক্তির অনিয়মের দায় সমগ্র ডিলার সমাজের উপর না চাপিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা।সংবাদ সম্মেলনে ওছমান আলী জানান, সেপ্টেম্বর মাসে রাজশাহী জেলায় টিএসপি এক হাজার ৪৫ মেট্রিক টন, এমওপি এক হাজার ৬২৯ মেট্রিক টন এবং ডিএপি তিন হাজার ১৫ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলায় আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর। আর কৃষকের সংখ্যা চার লাখ ১২ হাজারের বেশি।তিনি বলেন, বর্তমান বরাদ্দ কৃষকদের মধ্যে সমানুপাতিক হারে ভাগ করলে একজন কৃষকের ভাগে আনুমানিক ২ দশমিক ৫ কেজি টিএসপি, ৪ কেজি এমওপি ও ৭ কেজি ডিএপি পড়ে। ফলে কৃষকের প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।সাংসাদ সম্মেলনে বিএফএর সভাপতি আরও জানান, রাজশাহীতে বিসিআইসির ৮৬ জন এবং বিএডিসির ১৩০ জনসহ মোট ২১৬ জন সার ডিলার রয়েছেন। এর বাইরে ৪৭৫ জন কার্ডধারী খুচরা বিক্রেতা সার বিতরণের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন করে নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন। কোনো ডিলার অনিয়ম করলে তার দায় পুরো ডিলার সমাজের ওপর চাপানো উচিত নয়।সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সার নিয়ে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও করা হয়। ডিলারদের ভাষ্য, এসব তথ্যের কারণে কৃষকদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। অনেকে প্রয়োজনের আগেই সার কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। আগামী নভেম্বরের আলু ও পেঁয়াজ চাষকে কেন্দ্র করে এখনই সার সংগ্রহের প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।ডিলার নেতারা বলেন, অনেক কৃষক কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শের চেয়ে বেশি সার ব্যবহার করছেন। এতে সারের চাহিদা অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়ার পাশাপাশি জমির উর্বরতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই কৃষকদের বৈজ্ঞানিক ও সুষম পদ্ধতিতে সার ব্যবহারে কৃষি বিভাগের পরামর্শ জোরদারের দাবি জানান তাঁরা।এ ছাড়া রাজশাহীতে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর পুকুরে মাছ চাষ হয় উল্লেখ করে এসব পুকুরের জন্যও সার বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বিএফএ।ডিলাররা জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রিতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। বর্তমানে ইউরিয়া ও টিএসপি প্রতি বস্তা এক হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি এক হাজার ৫০ টাকা এবং এমওপি এক হাজার টাকা দরে বিক্রির জন্য নির্ধারিত রয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল গণি, নির্বাহী সদস্য সাইদুর রহমান ভুট্টো, লাল মোহাম্মদ সরদারসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



