১২ বছবের শিশুকে ‘বউ দাবি’ করে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা, ৯৯৯-এ ফোনে উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার,বরগুনা:
বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর রাওঘা গ্রামের এক সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে স্কুলে যাওয়ার পথে অপহরণ করে জাল হলফনামা তৈরি করে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. মনির হাওলাদার ও তার ভাই সোহাগ হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর সকালে দক্ষিণ রাওঘা নূর আলামিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রী কোচিংয়ে যাওয়ার পথে পার্শ্ববর্তী এলাকার মনির হাওলাদার তাকে কোচিংয়ে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়। কিন্তু স্কুলে না নিয়ে সে অন্যদিকে যেতে থাকে। মেয়েটি থামাতে বললে মনির জানায়, বাজারে জরুরি কাজ আছে, কাজ সারেই স্কুলে নামিয়ে দেবে।
কিছু দূর গিয়ে মনির তার ভাই সোহাগ হাওলাদারকে সঙ্গে নিয়ে আমতলীর এক অ্যাডভোকেট চেম্বারে যায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তাদের আত্মীয় কুলাইরচর এলাকার বাবুল মৃধার ছেলে রাকিব মৃধা।
সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, সেখানে জোরপূর্বক একটি হলফনামায় তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। বলা হয়, বিষয়টি ফাঁস হলে স্কুলে যাওয়ার পথে তাকে মেরে ফেলা হবে। ভয়ে মেয়েটি ঘটনাটি পরিবারকে জানায়নি।
এরপর ১৯ নভেম্বর (বুধবার) রাত নয়টার দিকে রাকিব মৃধা, সোহাগ হাওলাদার ছাত্রীর ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ছাত্রী চিৎকার করলে আশেপাশের মানুষ জড়ো হয়। তখন রাকিব মৃধা ছাত্রীকে ‘বউ দাবি’ করে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। মেয়েটির বাবা-মা বাধা দিলে তাদের মারধর করা হয়।
এসময় পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশে খবর দিলে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
অভিযুক্ত মনির হাওলাদার দাবি করেন, আমি কিছু জানি না, আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত রাকিব মৃধার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়া জগলুল হাসান বলেন আমি অবগত নই তবে খোঁজখবর নিচ্ছি


