চুনতিতে রক্তাক্ত মহাসড়ক দুই মারছা বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫, আহত ২৫-এর বেশি

  • প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, দুপুর ০৪:৩৫
  • আপডেট: ০৯ মে ২০২৬, দুপুর ০৪:৩৫
WhatsApp Image 2026-05-09 at 4.29.43 PM

ক্ষোভে মহাসড়ক অবরোধ, বেপরোয়া পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি

মোঃ আবদুল্লাহ (আল্-মামুন)

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফোর সিজন রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গঠনাস্থলে অন্তত ৫ জন নিহত এবং ২৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন । শনিবার (৯ মে) সকাল প্রায় ১১টার দিকে দুইটি মারছা বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে । দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক, আতঙ্ক ও তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে চলা দুইটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে । সংঘর্ষের বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে দেখেন, বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এবং অসংখ্য যাত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে ছিটকে পড়ে আছেন । ঘটনাস্থলের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বিভীষিকাময় ।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দুর্ঘটনার তীব্রতায় ফোর সিজন রেস্টুরেন্টের পাশের একটি দোকান সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে যায় । এছাড়া এক নারী যাত্রীর মরদেহের ভয়াবহ অবস্থা দেখে উপস্থিত মানুষ স্তব্ধ হয়ে পড়েন । দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় তার দেহের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানান স্থানীয়রা ।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় এলাকাবাসী উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন । পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী, দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ ও চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন । আহতদের দ্রুত লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । গুরুতর আহত কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে ।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে যান চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও লোহাগড়া বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ । তিনি আহতদের খোঁজখবর নেন এবং স্বজনদের সান্ত্বনা দেন । পাশাপাশি চিকিৎসা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন ।

দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে । ক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন । এসময় তারা অভিযোগ করেন, বারবার প্রাণহানি ঘটলেও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না ।

স্থানীয়দের দাবি, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক এবং মহাসড়কে কার্যকর নজরদারির অভাবের কারণেই একের পর এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে । তারা মারছা পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

আমার দোকান সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে গেছে । ক্ষতিপূরণ না দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাস সরাতে দেওয়া হবে না ।

তিনি অভিযোগ করেন, এর আগেও একই পরিবহনের একটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি ।

বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি জব্দ করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে । নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ।

Ad