মধুখালীতে বাথরুমের স্ল্যাবের নিচে বস্তাবন্দি নারীর কঙ্কাল উদ্ধার

  • প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, বিকাল ০৬:৫০
  • আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬, বিকাল ০৬:৫০
WhatsApp Image 2026-07-26 at 6.48.49 PM

জাকিব আহমেদ জ্যাক, ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর কর্মকারপাড়ার একটি বাড়ির কাঁচা বাথরুমের স্ল্যাবের নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক নারীর কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।রোববার (২৬ জুলাই) ভোরে ঘটনাটি প্রথম ধরা পড়ে। বাড়ির মালিক মৃত মধু মণ্ডলের ছেলে মো. আলী আকবর মণ্ডল (৮০)-এর স্ত্রী মোছা. রওশনা বেগম (৫৫) জানান, ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি বাথরুম ব্যবহার করতে গিয়ে স্ল্যাবের ওপর দাঁড়ালে অন্য দিনের তুলনায় অস্বাভাবিক কিছু অনুভব করেন। বিষয়টি তিনি স্বামীকে জানালে প্রথমে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।পরে আলী আকবর মণ্ডল নিজে বাথরুমে গিয়ে স্ল্যাবের নিচে বস্তাবন্দি কিছু রয়েছে বলে সন্দেহ করেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়টি জানানো হলে দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়।খবর পেয়ে মধুখালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। সাব-ইন্সপেক্টর মো. মাফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাটি উদ্ধার করেন। পরে বস্তা খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে এক নারীর কঙ্কাল রয়েছে। কঙ্কালটির মাথার খুলি মাঝারি আকারের, দীর্ঘ কালো চুলের কিছু অংশ অক্ষত ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন হাড় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মারুফ হাসান জানান, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।পুলিশ জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে বর্তমানে মধুখালী উপজেলায় কোনো নারী নিখোঁজ থাকার তথ্য থানার নথিতে পাওয়া যায়নি। ফলে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্তে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।এদিকে, এ ঘটনায় পুরো এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। কঙ্কালটি কার, কীভাবে বাথরুমের স্ল্যাবের নিচে বস্তাবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছিল এবং কতদিন ধরে সেখানে ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

Ad