সালাহউদ্দিন রুহুলের বিরুদ্ধে ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগ
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে টাকার বিনিময়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তিন সদস্যকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের জন্ম নিবন্ধন সনদ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি সনদের জন্য ৩ লাখ টাকা করে মোট ৯ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে এই জালিয়াতি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল এবং ইউপি সচিব মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে রেজিস্ট্রার জেনারেল (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) কার্যালয়ে একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছে। গত ৭ জুলাই স্থানীয় বাসিন্দা শফিউল আলম এ অভিযোগ দায়ের করেন। আবেদনের অনুলিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা তথ্য যাচাই করে সরকারি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ওয়েবসাইটে বেশ কিছু অদ্ভুত অসঙ্গতি উঠে এসেছে, সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ: জন্ম তারিখ ১৪ মার্চ ১৯৯৮। নিবন্ধনের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০২৫ এবং সনদ ইস্যুর তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০২৫। মুবিনা খাতুন: জন্ম তারিখ ১০ ডিসেম্বর ১৯৭৮। নিবন্ধনের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০২৫ এবং সনদ ইস্যুর তারিখ ৭ জুলাই ২০২৫। হাফিছা: জন্ম তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০০৫। একই দিনে (৪ জানুয়ারি ২০২৫) নিবন্ধিত এই সনদের ইস্যুর তারিখে লেখা রয়েছে ‘১ জানুয়ারি ০০০১’। ওয়েবসাইটে তথ্যের বিচ্যুতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাইমুন ও মুবিনা—দুজনের নিবন্ধনে মায়ের নাম ‘নুরজাহান’ এক হলেও বাবার নাম আলাদা। আবার সরকারি জন্ম যাচাই সার্ভারে মুবিনা ও সাইমুনের জন্মস্থান ‘কক্সবাজার’ দেখালেও হাফিছার জন্মস্থান দেখাচ্ছে ‘কুমিল্লা’। তবে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নুরুল ইসলাম দাবি করেন, তারা তার এলাকারই স্থায়ী বাসিন্দা। স্থানীয়দের মতে, ইউপি এলাকার বাসিন্দা না হওয়া সত্ত্বেও সার্ভারের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা চেয়ারম্যান ও সচিবের অসৎ উদ্দেশ্যে দেওয়া সুবিধা ছাড়া এত বড় জালিয়াতি অসম্ভব। সনদ ইস্যুর সময়কাল নিজের মেয়াদের মধ্যে হলেও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল। তিনি জানান আমি ২০২৪ সালের আগস্টে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেও জন্ম নিবন্ধনের ইউজার এক্সেস হাতে পেয়েছি ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি। অভিযোগে উল্লিখিত জন্ম সনদগুলো কীভাবে বা কার মাধ্যমে হয়েছে তা আমার জানা নেই। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই জালিয়াতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন অভিযোগকারী শফিউল আলম। তিনি জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চালালে এমন বহু ভুয়া সনদের তথ্য প্রকাশ্যে আসবে। ভুয়া সনদগুলো অবিলম্বে বাতিল করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তায় পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন তিনি।

