দেবিদ্বারে ড্রেজার বিরোধী অভিযান: ২টি মেশিন ও ১০০০ ফুট পাইপলাইন ধ্বংস

  • প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, বিকাল ০৬:৩৪
  • আপডেট: ২৪ মে ২০২৬, বিকাল ০৬:৩৪
WhatsApp Image 2026-05-24 at 6.18.03 PM

জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় তিন ফসলি কৃষি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ২৪ মে ২০২৬ খ্রি. (রবিবার) উপজেলার ১০নং গুনাইঘর (দক্ষিণ) ইউনিয়নের উজানিজোড়া গ্রামে একটি সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ২টি ড্রেজার মেশিন এবং প্রায় ১০০০ ফুট পাইপলাইন গুঁড়িয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়। ​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজানিজোড়া গ্রামের মনির মেম্বারের বাড়ির পাশে বিস্তীর্ণ কৃষি জমি থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে আসছিল। এতে করে আশপাশের শত শত একর আবাদি জমি ও বসতবাড়ি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে এবং গোপনে দিনেও চলছিল এই অবৈধ কর্মকাণ্ড। পরবর্তীতে স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। ​অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে আজ দুপুরের দিকে উজানিজোড়া গ্রামের ওই নির্দিষ্ট স্পটে আকস্মিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ড্রেজার পরিচালনাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও ভ্রাম্যমাণ আদালত মাটিকাটার মূল সরঞ্জাম তথা ২টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও ১ হাজার ফুট প্লাস্টিকের পাইপ জব্দ করে তা ঘটনাস্থলেই ভেঙে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। ​অভিযান শেষে দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিন ফসলি আবাদি জমি নষ্ট করে কোনোভাবেই মাটি কাটা বা বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। ড্রেজার ব্যবসা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। উজানিজোড়া গ্রামের সাধারণ কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে আজ আমরা এই অভিযান চালিয়েছি এবং অবৈধ সরঞ্জামাদি ধ্বংস করেছি। কৃষি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় দেবিদ্বার উপজেলা প্রশাসনের এ ধরণের কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। ​এদিকে উপজেলা প্রশাসনের এই ঝটিকা অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষক ও সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কৃষক বলেন, "ড্রেজারের কারণে আমাদের জমিগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে ছিল। আমরা ভয়ে কথা বলতে পারতাম না। আজ প্রশাসন এসে ড্রেজার ধ্বংস করায় আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি। ​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, উপজেলার কোথাও কোনো অবৈধ ড্রেজার চললে বা কৃষি জমির ক্ষতি করে মাটি কাটা হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। পরিবেশ ও কৃষকের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চক্রগুলোর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad