মানিকগঞ্জে সাংবাদিক ও শিক্ষক হত্যাচেষ্টা: প্রধান আসামির জামিন বাতিল ও পুনরায় কারাগারে প্রেরণ

  • প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ০৭:৫৫
  • আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ০৭:৫৫
WhatsApp Image 2026-08-10 at 7.50.44 PM

শাহাদুর রহমান সুজন, মানিকগঞ্জঃ

​মানিকগঞ্জের ঘিওরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় সাংবাদিক ও স্কুলশিক্ষকের ওপর বর্বরোচিত হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি চঞ্চল কুমার পালের জামিন বাতিল করে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আপস-মীমাংসার নামে আইনি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং জামিনে বের হয়ে উল্টো পাল্টা মামলা দায়েরের বিষয়টি আদালত আমলে নেওয়ায় বিচারক এই কঠোর অবস্থান নেন। মঙ্গলবার মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক নজরুল ইসলাম উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে বিকেলে ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে আদালতের একটি রায়কে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রতিবেশী মৃত শ্যামল কুমার পালের ছেলে চঞ্চল কুমার পাল। অভিযোগ রয়েছে, চঞ্চল তার মা সরস্বতী রানী পাল ও অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের নিয়ে অতর্কিতভাবে স্থানীয় সাংবাদিক পিযুষ পাল ও তার বড় ভাই স্কুলশিক্ষক পঙ্কজ পালের ওপর হত্যাচেষ্টা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো ছুরি ও তারকাঁটাযুক্ত লাঠি দিয়ে সাংবাদিক পিযুষ পালের মাথা, ঘাড় ও হাতে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম করে। ছোট ভাইকে বাঁচাতে শিক্ষক পঙ্কজ পাল এগিয়ে এলে তাঁকেও হত্যার উদ্দেশ্যে বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। দুই ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাংবাদিক পিযুষ পালের গলা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনায় আহতদের বোন শিখা রানী পাল বাদী হয়ে ঘিওর থানায় চঞ্চল কুমার পাল, তার মা সরস্বতী রানী পালসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা ও লুটপাটের মামলা দায়ের করেন।ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর গত ১৬ জুন প্রধান আসামি চঞ্চল পাল আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান। এরপর ২২ জুন আসামিপক্ষ ‘পুটআপ’ আবেদন করলে আদালত ২৩ জুন শুনানির দিন ধার্য করেন এবং ওইদিনও জামিন আবেদন খারিজ/নামঞ্জুর করে দেন। পরবর্তীতে আসামি পক্ষ তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে বাদীর সাথে আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দেন। বিচারক বাদীর ইচ্ছা জানতে চাইলে, বাদীপক্ষ জানান যে তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও শান্তির পক্ষে। ফলশ্রুতিতে বিচারক আপস-মীমাংসার জন্য ধার্য তারিখ পর্যন্ত আসামিকে জামিন দেন।​কিন্তু জামিনে বের হয়েই আসামি পক্ষ আপস তো দূরের কথা, মামলার ২ নং আসামী সরস্বতী পাল বাদী হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে দুটি পাল্টা মামলা দায়ের করে কালক্ষেপণ শুরু করেন। আজকের শুনানির দিনে আদালত এই প্রতারণামূলক আচরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আসামির জামিন বাতিল করেন এবং তাকে অবিলম্বে পুনরায় কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। তবে মামলার আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত স্বাভাবিক নিয়মেই চলমান রয়েছে।প্রধান আসামির জামিন বাতিল হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, শিক্ষকবৃন্দ ও সচেতন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, আদালতের এই আদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হলো। তারঘটনার পেছনে থাকা প্রকৃত উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Ad