দেবিদ্বারে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল: প্রবাসে থেকেও ৩ জনকে আসামি করার অভিযোগ
জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
সৌদিআরব ও কাতারে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন, এমন প্রবাসী যুবকদের দেশে এসে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে! কুমিল্লা দেবিদ্বার থানায় পুলিশের দায়ের করা একটি সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় এমন অসঙ্গতির তথ্য উঠে এসেছে। বাস্তবে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের সরাসরি মিছিলে উপস্থিত দেখিয়ে আসামি করার এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গত ২ আগস্ট (রোববার) দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অপু বড়ুয়া বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ইউসুফপুর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী বেআইনিভাবে একত্রিত হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগানসহ ঝটিকা মিছিল বের করেন। পুলিশ ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের পরিচয় শনাক্ত করেছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মাত্র ১০-১২ জন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মামলার ৬ নম্বর আসামি দেবিদ্বার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন রুবেল দীর্ঘদিন ধরে কাতারে অবস্থান করছেন। ৭ নম্বর আসামি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম ও ৯ নম্বর আসামি পৌর ছাত্রলীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক শাওন অবস্থান করছেন সৌদিআরবে। সাইদুল ইসলামের ছোট ভাই মিজানুর রহমান বলেন, আমার ভাই গত বছরের ৩১ মে সৌদি আরব গেছেন। বিদেশে থেকেও দেশে এসে মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মামলায় আসামি করার বিষয়টি আমাদের স্তব্ধ করেছে। ৯ নম্বর আসামি শাওনের মা ফেরদৌসী আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, আমার ছেলে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি সৌদি আরব গেছে। এখন শুনছি সে নাকি দেবিদ্বারে মিছিল করেছে! এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এদিকে কাতার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ৬ নম্বর আসামি ইকবাল হোসেন রুবেল বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়াই মামলা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ মিছিলের যে ভিডিও দেখে আসামি শনাক্তের দাবি করছে, সেখানে আমরা প্রবাসীরাসহ এজাহারনামীয় অধিকাংশ লোকই অনুপস্থিত ছিলাম। মনে হচ্ছে পুলিশ ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও আমাদের দেখতে পেয়েছে! ঘটনায় আরও অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার ৪ নম্বর সুবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারকে মামলার ৮ নম্বর আসামি করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলা সদরের নিউ মার্কেট এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে পরিবারের দাবি, মিছিলের ভিডিও চিত্রে আবু তাহেরের কোনো উপস্থিতি ছিল না। এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে আসামিদের কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন কি না, তা নিখুঁতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



