জামালপুর ওসির বডিগার্ড হারানো ফোন উদ্ধার করতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

  • প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ০৩:৪৬
  • আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ০৩:৪৬
WhatsApp Image 2026-04-05 at 2.05.51 PM

 মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ। জামালপুর প্রতিনিধি :

হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামালপুর সদর থানার ওসির বডিগার্ড ওয়াজেদ এর বিরুদ্ধে।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।ওয়াজেদ আলী যাহার বিপি নং: ৯৪১৪১৮২৮১১জামালপুর সদর থানায় ওসির বডিগার্ড হিসাবে দায়িত্বে আছে।গোপন সূত্রে জানা যায়, ওয়াজেদ দীর্ঘদিন যাবত মানুষের হারানো যাওয়া মোবাইল উদ্ধারের কাজ করে আসতেছেন। থানায় ভিতরে একটি ছোট্ট রুম আছে, সেই রুমে মোবাইলের মালিকদের নিয়ে চলে দরকষাকষি । প্রথমে ১৫০০ টাকা নেয়। তারপর মোবাইল ফোন উদ্ধার করে বাকী নেয়। ভুক্তভোগীর জাহিদ বলেন, মাত্র ৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে জামালপুর সদর থানার ওসির বডিগার্ড ওয়াজেদ চার হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছেন। পরে আমি তিনহাজার টাকা দিয়ে নিয়েছি। লক্ষীরচর ইউনিয়নের ফারুকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জানান,ওয়াজেদ আমার নিকট থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা নিয়েছে।আমারে বুঝিয়েছে সরকারি খরচ ২১ শত টাকা। মধুপুর থেকে মোবাইল উদ্ধার করে নিয়ে আসার জন্য সেই থানার দারাগো কে খরচ বাবদ টাকা দিতে হয়েছে। সব মিলে সাড়ে ৩ হাজার টাকা নেন।শরিফপুর ইউনিয়নের গোদাশিমলা এলাকার সৌমিক হাসান হাসিব এর কথা বলে জানা যায়, মোবাইল উদ্ধার করে সাড়ে ৩ হাজার টাকা নেন।তিনি বলেছেন মোবাইল রাঙ্গামাটি থেকে উদ্ধার করে আনেন।আমার নিকট ৬ হাজার টাকা দাবি করে।পরে দরকষাকষি করে দুই দাপে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। প্রথমে ২ হাজার টাকা পরে ১৫শত টাকা নেন।মোহন নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন,আমার মোবাইল হারিয়ে যায়।এলাকার এক লোকই চুরি করে ছিলো।তাকে কিছু টাকা দিয়ে মোবাইল ফেরত নিয়েছে।কিন্তু ওয়াজেদ ১৫শত টাকা দাবি করে।বলে আমার একটা কোড কিনে আনতে হয়েছে।পরে ৫ শত টাকা তাকে দিয়েছে। আরেকটা লোক সেই সময় মোবাইল উদ্ধার করার জন্য আসলে তার নিকট থেকে ২৪শত টাকা নেন ওয়াজেদ।রিফাত নামে আরেকজন বলেন আমি একটা পুরাতন মোবাইল ক্রয় করি। পরে জানতে পারি সেটা ছিলো চুরি করা। ওয়াজেদ নামে এক পুলিশ সদস্য আমাকে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন কিছু বুঝিয়ে জোরাজোরি করি ৪ হাজার টাকা নেন। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য বলেন, মোবাইল উদ্ধার কাজ এসআই ও এএসআইদের। ওয়াজেদ ভাই দীর্ঘদিন ধরে হারানো মোবাইল উদ্ধার করছে।ওয়াজেদ বলেন, আমি দুইমাসে ১২০ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছি। উদ্ধার কাজ দীর্ঘদিন ধরে করে আসতেছি। আগে ডিবিতে ছিলাম সেখানে সেই কাজ করেছি। কিছু দিন আগে সিলেট থেকেও হারানো মোবাইল উদ্ধার করছি। উদ্ধার মোবাইল কেউ যদি না দেয়, ওসি স্যারের সহযোগিতা নিয়ে উদ্ধার করতে হয়। তিনি আরো বলেন, অন্য জেলার মোবাইল ফোন উদ্ধার ও পরকিয়া ছেলে মেয়ে উদ্ধার কাজ করি। একটি সিডিআর নিয়ে আসতে গণমাধ্যমকর্মী কাছে ৭ হাজার টাকা দাবী করেন। জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

Ad