কুমিল্লায় পাঁচ অভিযানে আটক ২ হাজার ৩৫ জন
জিএম মাকছুদুর রহমান:
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রুখতে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানের পঞ্চম ধাপে বড় ধরনের সাফল্য অর্জিত হয়েছে। জেলার ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-র যৌথ এই ঝটিকা অভিযানে চার শীর্ষ গ্যাংলিডারসহ মোট ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে।শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হয়ে শনিবার ভোর পর্যন্ত চলা এই সাঁড়াশি অভিযানে কক্সবাজারসহ কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টারদের পাকড়াও করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চম ধাপে আটক ৩৭০ জনের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৯১ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া চার শীর্ষ গ্যাংলিডার হলো—‘টিম জেডএডব্লিউ’ গ্যাংয়ের মূল চালিকাশক্তি ইমরান হোসেন রতন (১৯), যার বিরুদ্ধে খুনসহ ৯টি মামলা রয়েছে; বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা চলমান থাকা সাইফুল ইসলাম (২০); ভয়ঙ্কর ‘ক্রাইম সেটআপ’ গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতা মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪) এবং অপরাধমূলক মামলার আসামি রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’। পুলিশ জানিয়েছে, ঘর বা রেস্তোরাঁয় বসে থাকা কাউকে হয়রানি করা হয়নি; বরং সন্ধ্যার পর বিনা কারণে বা উদ্দেশ্যহীনভাবে রাস্তায় ঘোরাফেরা করা কিশোরদেরই কেবল এ অভিযানে আটক করা হয়।পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, এ পর্যন্ত পরিচালিত পাঁচ ধাপের বিশেষ অভিযানে মোট ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে এবং অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় ৬২৬ জনকে আদালতের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বর্তমানে কুমিল্লা শহর ও বিভিন্ন উপজেলাগুলোতে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। মূলত সপ্তম শ্রেণির ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে কিশোর গ্যাংয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়ার পরই পুলিশ এই অভিযান আরও জোরদার করে। ওই মামলায় ইতোমধ্যে চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৯ বছরের তুহিনসহ দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং অপর এক আসামি সিয়ামকে তথ্য গোপনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের কারবার, সেবন, অবৈধ মোটরসাইকেল ব্যবসা ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কঠোরহস্তে দমনে এই নজরদারি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



