টানা বৃষ্টিতে কুমিল্লার সড়কগুলো এখন নৌপথ
জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
টানা ভারী বর্ষণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে কুমিল্লা মহানগরী। রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিতে শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি, বাড়ির এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গিয়ে একাকার হয়ে গেছে। এই চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পোহাতে হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কুমিল্লায় ১৩৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আরও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট থৈথৈ করায় সকাল থেকেই যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে অনেক পরীক্ষার্থীই নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। বহু শিক্ষার্থীকে বৃষ্টিতে ভিজে, কাপড় ভিজিয়ে এবং পানিতে নেমে কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ভেতরে জমে থাকা পানির ওপর দিয়ে পরীক্ষার্থীদের পারাপারের জন্য বিশেষ নৌকার ব্যবস্থা করতে হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নৌকায় চড়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ডুবন্ত সড়কে চলতে গিয়ে অনেককে গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হতেও দেখা গেছে এবং অধিকাংশ পরীক্ষার্থী ভেজা কাপড়েই পরীক্ষার আসনে বসতে বাধ্য হয়। বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা নেওয়া এবং এমন দুর্যোগে পরীক্ষা স্থগিত না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। নিলিমা আক্তার নামের এক পরীক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন যে, এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। তবে এই বৈরী পরিস্থিতির শিকার শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আশ্বাস দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ জানিয়েছেন, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে দেখছে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল বাসার ভূঁঞা জানান, তার কেন্দ্রে আটটি কলেজের মোট ২ হাজার ১০০ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে; মাঠ পানিতে ডুবে গেলেও পরীক্ষা কক্ষগুলো সুরক্ষিত আছে। এছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে যে সমস্ত পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি করেছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। অন্যদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, সকাল থেকেই তিনি সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং পরীক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারে, তা তদারকি করেছেন। এদিকে সাধারণ মানুষের এই অসহায়ত্ব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুঁজি করে আজ শহরের রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকেরা দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনো উপায় না থাকায় বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া গুনেই গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে সাধারণ যাত্রী ও পরীক্ষার্থীদের। সব মিলিয়ে এই আকস্মিক ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় কুমিল্লার স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।


