ব্রাহ্মণপাড়ায় ঐতিহ্যবাহী মহিলা মাদরাসা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র, অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী
জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার বি-পাড়া উত্তর চান্দলার ঐতিহ্যবাহী ‘হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) মহিলা মাদরাসা’টি ধ্বংস করতে একটি স্থানীয় কুচক্রী মহল নানামুখী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাদরাসার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করতে এবং সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে একটি চক্র ভিত্তিহীন প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেছেন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির জমিদাতা নূরজাহান বেগম। সম্প্রতি মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের আবাসন ও ক্লাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে একটি নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জমিদাতার সুযোগ্য সন্তান আঃ হান্নান সরকার সম্পূর্ণ মাদরাসার স্বার্থে এবং ছাত্রীদের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে নিজস্ব অর্থায়নে এই ভবনটি তৈরি করছেন। অথচ এলাকার একটি কুচক্রী মহল—যার মধ্যে অন্যতম মোঃ জহিরুল হক (পিতা: নেওয়াজ আলী) এবং তার দুই ছেলে মোঃ রিদয় ও মোঃ রিয়াজ—এই মহৎ উদ্যোগকে ভিন্ন খাতে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করছে। চক্রটি কিছু ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টাল ও নামসর্বস্ব পত্রিকায় মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। ওইসব বিভ্রান্তিকর সংবাদে দাবি করা হয়েছে, আঃ হান্নান সরকার মাদরাসার জায়গা দখল করে নিজস্ব ভবন তৈরি করছেন; যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ বিষয়ে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম এবং মোহতামিম হাফেজ মাওলানা মোঃ ফয়জুল্লাহ ফাহিম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- মাদরাসার ছাত্রীদের আবাসন সংকট দূর করতে আঃ হান্নান সরকার যে ভবনটি করে দিচ্ছেন, তা সম্পূর্ণ মাদরাসার সম্পদ। এখানে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। একটি কুচক্রী মহল মাদরাসাটির অগ্রগতি সইতে না পেরে এবং প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস করার হীন উদ্দেশ্যে এমন নোংরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এই মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোঃ হাবিবুল্লাহ সরকার ও মোঃ মাহফুজুর রশিদ জানান, নূরজাহান বেগমের পরিবার শুরু থেকেই এই মাদরাসার কল্যাণে কাজ করে আসছে। নতুন ভবনটি নির্মিত হলে এলাকার নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রাখবে। কিন্তু জহিরুল হক ও তার ছেলেরা ব্যক্তিস্বার্থ বা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পুরো এলাকার একটি ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এলাকাবাসী ও মাদরাসার শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন এবং যারা হলুদ সাংবাদিকতার আশ্রয় নিয়ে দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা রটাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা প্রশাসনকে এই কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে মাদরাসার উন্নয়ন কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

