কর্মসংস্থানের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এলএসপি-দের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি।
মো:লিয়াকত আলী,প্রতিনিধি, ঢাকা-১৩ জুলাই, ২০২৬
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পে (LDDP) কর্মরত লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার (এলএসপি)-দের চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান এবং প্রকল্প বন্ধের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে 'বাংলাদেশ এলএসপি ঐক্য পরিবার'। কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার দাবিতে বিগত ০৫/০৭/২০২৬ ইং তারিখ থেকে তারা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
মূল সংকট ও এলএসপি-দের অভিযোগ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, দেশের প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি খাতের উন্নয়নে প্রায় ৪,২০০ জন এলএসপি গত ৭ বছর ৮ মাস ধরে মাঠ পর্যায়ে অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সাথে কাজ করে আসছিলেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশে ডিম, দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে খাতটি স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। পশুর মরণব্যাধির টিকা প্রদান এবং মাঠ পর্যায়ে ৬,৫০০টি পিজি গ্রুপ (Producer Group) গঠনে তারা মূখ্য ভূমিকা পালন করেন, যার ফলশ্রুতিতে 'প্রাণিসম্পদ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড' গঠিত হয়।তবে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, পর্যাপ্ত তহবিল থাকা সত্ত্বেও গত ৩১/০৩/২০২৬ ইং তারিখে ৪,২০০ জন এলএসপি-কে এই সেক্টর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ৩০/০৬/২০২৬ ইং তারিখে পুরো প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। আন্দোলনরত এলএসপি-দের দাবি, কোনো রকম পূর্ব ঘোষণা বা পুনর্বাসন ছাড়াই তাদের কর্মকে এভাবে বন্ধ করে দেওয়া যেন তাদের "গলা টিপে হত্যা করার" শামিল। হঠাৎ চাকরি হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা বর্তমানে অত্যন্ত মানবেতর ও জীবন্মৃত জীবন যাপন করছেন।পূর্ববর্তী পদক্ষেপ ও প্রশাসনের আশ্বাস নিজেদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনার দাবিতে এলএসপি-রা এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছেন। তারা জানান:ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ পর্যন্ত ৩ বার সংবাদ সম্মেলন করেছেন।প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ৯ বার মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল এবং অধিদপ্তর কর্তৃক মন্ত্রণালয়ের বরাবরে ৪টি ফরওয়ার্ডিং পাঠানো হয়েছিল।কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও উক্ত ফরওয়ার্ডিং বা আদেশের কোনো বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় তারা পুনরায় রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।এলএসপি-দের মূল দাবি সমূহ| 'বাংলাদেশ এলএসপি ঐক্য পরিবার'-এর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং ডিএলএস (DLS)-এর মহাপরিচালক (ডিজি) মহোদয়ের নিকট প্রধান দাবিগুলো হলো:
১. বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা করতে বয়স প্রমাজন (শিথিল) করা।
২. কোনো শর্ত ছাড়াই সকল ধরণের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা।
৩. মাস্টাররোল বা ইউনিয়ন ভিত্তিক স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও হুঁশিয়ারি বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক (সদস্য সচিব) শরিফ হোসেন এবং প্রধান সমন্বয়ক এস এম জামান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত তাদের এই যৌক্তিক দাবি আদায় না হবে, ততদিন তারা এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে পিছু হটবেন না। প্রয়োজনে সাধারণ অবস্থান কর্মসূচি থেকে আমরণ অনশন বা আরও কঠোর কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তারা হুঙ্কার দিয়েছেন।দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং চার সহস্রাধিক যুবকের কর্মসংস্থান রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন—এমনটাই এখন সাধারণ এলএসপি ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রত্যাশা।


