বাঙ্গরা বাজার থানায় বিতর্কিত এএসআই আল-আমিন, বদলির নির্দেশেও ছাড়েননি কর্মস্থল

  • প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, দুপুর ০৪:২৬
  • আপডেট: ০৯ মে ২০২৬, দুপুর ০৪:২৬
WhatsApp Image 2026-05-08 at 3.51.20 PM

জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানায় কর্মরত এএসআই আল-আমিনকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসলেও রহস্যজনক কারণে তিনি এখনও বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বদলির নির্দেশ জারি হওয়ার পরও কর্মস্থল না ছাড়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে আল-আমিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ঘুষ গ্রহণ, নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি এবং মাদক কারবারিদের সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসী ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বি-চাপিতলা গ্রামের টাইলস ঠিকাদার নাছির উদ্দিন সেনাবাহিনীকে একটি মাদক স্পট চিহ্নিত করতে সহায়তা করেছিলেন। পরে সেই ঘটনার জেরে তাকে মাদক মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এএসআই আল-আমিন। এছাড়া খবির ভূঁইয়া নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মামলার ভয় দেখিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা এবং সিএনজি চালক ইমরান হোসেনের কাছ থেকে চুরির অভিযোগে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা আদায় এবং নারী হয়রানির অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসপাতাল কর্মী গোলাপী আক্তার ও আকুবপুর গ্রামের আকলিমা আক্তারের স্বজনদের মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় অবৈধ ড্রেজার ও ভেকু ব্যবসা থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করতেন আল-আমিন। সূত্র বলছে, এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে জনস্বার্থ বিবেচনায় তাকে রাঙামাটি জেলায় বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়র ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান তার বদলি বাতিলের আবেদন নাকচ করলেও অদৃশ্য কারণে তিনি এখনো আগের কর্মস্থলেই অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর অভিযোগকারীদের অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করতে স্থানীয় কিছু লোকজন দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে এএসআই আল-আমিন তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। যদিও বদলির পরও কেন তিনি কর্মস্থলে রয়েছেন—এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এ বিষয়ে মোঃ আনিসুজ্জামানর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাঙ্গরা বাজার এলাকার সাধারণ মানুষ দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Ad