কটিয়াদী হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতায় বেহাল দশা
৫০ না ১০০ শয্যা—ব্যানারেই বিভ্রান্তি
পরিচ্ছন্নতাকর্মী সংকটের কথা স্বীকার কর্তৃপক্ষের, রোগীসেবার পরিবেশ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
পারুল আক্তার
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ):
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা, অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার ও দীর্ঘদিনের জমে থাকা নোংরা পরিবেশের চিত্র উঠে এসেছে সরেজমিনে, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সুস্থ হওয়ার কথা থাকলেও হাসপাতালের এমন পরিবেশে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, হাসপাতালের শৌচাগারের মেঝে ও কমোডে ময়লা জমে আছে। দেয়ালের টাইলসেও রয়েছে দীর্ঘদিনের ময়লা ও দাগ। একটি শৌচাগারের অবস্থা এমন যে সেটি নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের ভেতরের কিছু অংশেও অপরিচ্ছন্নতার চিত্র দেখা যায়।
এদিকে হাসপাতালের সক্ষমতা নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। হাসপাতালের ব্যানারে ‘১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল’ লেখা থাকলেও স্থানীয়ভাবে ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে এটিকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। সরকারি অনুমোদন ও বর্তমান কার্যক্রমের সঙ্গে ব্যানারে উল্লেখিত শয্যা সংখ্যার মিল আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ শাহারিয়া অনিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হাসপাতালে সরকারিভাবে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন। এর বাইরে আরও তিনজন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করেন বলে তিনি জানান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় নিয়মিতভাবে পুরো হাসপাতালের পরিচর্যা করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রধান কর্মকর্তা আরও জানান, হাসপাতালটি পুরোনো ভবন থেকে নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হলে এ ধরনের পরিস্থিতি থাকবে না।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে—নতুন ভবনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত রোগী ও স্বজনদের কি এমন অপরিচ্ছন্ন পরিবেশেই সেবা নিতে হবে? স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। জনবল সংকট থাকলে তার সমাধানে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে কি না, আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিশেষ করে হাসপাতালের শৌচাগারের এমন অবস্থা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও রোগী নিরাপত্তার মানদণ্ড কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে যদি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন, তাহলে বিষয়টি শুধু অব্যবস্থাপনা নয়; এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের কারণ।
এ অবস্থায় হাসপাতালে অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা, প্রকৃত কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা, আউটসোর্সিং কর্মীদের দায়িত্ব ও উপস্থিতির রেকর্ড এবং পরিচ্ছন্নতার জন্য বরাদ্দ অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও তদন্ত প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন—এটাই এখন প্রত্যাশা।



