দপ্তরির দখলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম! ক্লাস টাইমে শিক্ষার্থীদের হাতে ঝাড়ু, দায়িত্ব পালনে অবহেলা প্রধান শিক্ষিকার
শাহাদুর রহমান সুুজন, মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নে অবস্থিত ২৮নং তীর্থঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের মাঝে এই বিদ্যালয়টি পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া যায় বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কুলসুম আক্তার ও দপ্তরী মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৯.১৫ মিনিটে বিদ্যালয়টির প্রথম শ্রেনির শিক্ষকের চেয়ারে বসে আছেন দপ্তরি মনিরুল ইসলাম। এবং তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিদ্যালয়ের সকল ক্লাসরুম, বারান্দা ও সিঁড়ি ঝাড়ু দেওয়াচ্ছেন। এ বিষয় নিয়ে দপ্তরি মনিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিজে চেয়ারে বসে থেকে কেন বাচ্চাদের দিয়ে ঝাড়ু দেওয়াচ্ছেন, এ বিষয়ে দপ্তরি মনিরুল উল্টো গণমাধ্যমকর্মীকে প্রশ্ন করেন, ঝাড়ু দেওয়া কি আমার কাজ নাকি? এটা বাচ্চাদের কাজ। আমার কাজ শুধু জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা এবং শ্রেণিকক্ষের তালা খুলে দেওয়া।
অপরদিকে, ৯.১১ মিনিটে বিদ্যালয়টিতে উপস্থিত হন বিদ্যালয়টির দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষিকা কুলসুম আক্তার। এরপর বিদ্যালয়টির আরেক সহকারী শিক্ষিকা আইরিন আক্তারের উপস্থিতি না পেলে প্রধান শিক্ষিকা জানান, তিনি অসুস্থ এজন্য ছুটিতে আছেন৷ কিন্তু সহকারী শিক্ষিকা আইরিন আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমার জরুরী কাজ আছে এজন্য আমি ছুটি নিয়েছি। তিনি ছুটির জন্য কোন আবেদন পত্র জামা দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি দপ্তরিকে বলেছি তিনি আমার আবেদন পত্র লিখে জমা দিবেন। তার এমন বক্তব্যে ব্যাপক অনিয়ম আর দূর্নীতির তথ্য চিত্র ফুটে ওঠে- দপ্তরি কেন শিক্ষিকার হয়ে আবেদন পত্র জমা দিবেন? আর ঐ শিক্ষিকার স্বাক্ষরই বা দপ্তরি কিভাবে দিবেন? তাছাড়া প্রধান শিক্ষিকার সাথে ঐ সহকারী শিক্ষিকার ছুটির কারণ ও মিল পাওয়া যায় নি।আবার বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর সময় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৯.৩০ মিনিটে বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয়ে থাকে। এ বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষিকা কুলসুম আক্তার জানান, বাচ্চারা মিথ্যে বলছে। শুধু আজই দেরি হয়েছে তাছাড়া আমরা সঠিক সময়ে ক্লাস শুরু করে থাকি। অপর দিকে দপ্তরি কেন বসে থেকে বাচ্চাদের দিয়ে ঝাড়ু দেওয়াচ্ছেন এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি দপ্তরিকে কখনো ঝাড়ু দেওয়ার জন্য নোটিশ করিনি। নিয়মিত বাচ্চারাই ঝাড়ু দিয়ে থাকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, এই বিদ্যালয়ের ক্লাস কখনো ৯.৩০ মিনিটের আগে শুরু হয় না। আর বিদ্যালয়ের দপ্তরি সে তো একজন বড় মাপের সরকারি কর্মকর্তা তিনি সব সময় শিক্ষকদের সাথে বসে আড্ডা দিয়ে সময় পার করেন এবং বিদ্যালয়ের সকল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের কাজ বাচ্চাদের দিয়ে করান। এবং সে স্থানীয় হওয়ার কারণে শিক্ষকরা ও ভয়ে তাকে কিছু বলতে সাহস পান না। তিনি শুধু হাজিরা দিয়েই বসে বসে বেতন তুলছেন।এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার এনামুল হক বলেন, দুই শিফটের বিদ্যালয় ৯.৩০ মিনিটে শুরু করার কোন সুযোগ নেই। আর সকল শিক্ষককে অবশ্যই ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে। অপরদিকে দপ্তরি বসে থেকে বাচ্চাদের দিয়ে ঝাড়ু দেওয়ার কোন সুযোগ নেই, দপ্তরির প্রথম কাজই হলো ঝাড়ু দেওয়া। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবো।এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা শিক্ষা অফিসার শামীমা আক্তার বলেন, এসব অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। তারা এসব অনিয়মের মধ্যে জড়িত থাকলে আমি তাদের বিরুদ্ধে লিখিত ভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবো।

.webp)

