দেবিদ্বারে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত সিএনজি ভাড়া আদায়

  • প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ০৬:০৩
  • আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ০৬:০৩
WhatsApp Image 2026-08-30 at 5.13.26 PM

জিএম মাকছুদুর রহমান:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ন্ত্রিত মনগড়া ভাড়া আদায়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। প্রশাসনের নির্ধারিত ভাড়ার কোনো তোয়াক্কা না করে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সিএনজি চালকদের বিরুদ্ধে। প্রতিদিনের এই হয়রানিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত চলাচলকারী পথচারীরা। ​সরেজমিনে ঘুরে এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেবিদ্বার কেন্দ্রিক বিভিন্ন রুটে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি নিয়ম-নীতির বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। দেবিদ্বার থেকে কোম্পানীগঞ্জ রুটে নির্ধারিত সিএনজি ভাড়া ২০ টাকা হলেও চালকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছেন ২৫, ৩০ এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ৪০ টাকা পর্যন্ত। একই চিত্র দেখা গেছে দেবিদ্বার থেকে কালিকাপুর রুটেও; যেখানে নির্ধারিত ভাড়া ২০ টাকা, সেখানে যাত্রীদের বাধ্য করা হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দিতে। এ ছাড়া দেবিদ্বার থেকে এলাহাবাদ বাজার পর্যন্ত গন্তব্যে সরকারিভাবে নির্ধারিত সিএনজি ভাড়া ৪০ টাকা হলেও সাধারণ যাত্রীদের নিকট থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। ​যাত্রীদের অভিযোগ, অন্যায্য ভাড়ার প্রতিবাদ করলেই সিএনজি চালকদের দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। চালকরা একজোট হয়ে অশালীন আচরণ করে এবং অনেক সময় মাঝরাস্তায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা গুণছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী যাত্রীরা।​নিয়মিত পথচারী ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বললে তাদের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পায়। আশিকুর রহমান নামের এক চাকরিজীবী পথচারী জানান, অফিস বা কাজের প্রয়োজনে প্রতিদিন তাদের দেবিদ্বার থেকে কোম্পানীগঞ্জ যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু নির্ধারিত ভাড়া ২০ টাকা হলেও চালকেরা তাদের থেকে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দাবি করে বসে এবং অতিরিক্ত টাকা না দিলে তারা গাড়িতে তুলতেই চায় না। তাদের এই মনগড়া নিয়মে সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণ জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে তিনি ক্ষোভ জানান। অন্যদিকে গৃহিণী মিলি বেগম জানান, দেবিদ্বার থেকে কালিকাপুরে ২০ টাকার ভাড়া দিতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। পরিবার-পরিজন নিয়ে সিএনজিতে উঠলে প্রতি মুহূর্তেই ভীতিতে থাকতে হয়, কখন যেন ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে যায়। চালকদের এই বেপরোয়া আচরণের কোনো প্রতিকার নেই বলে তিনি অভিযোগ করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, অন্যায় ভাড়ার প্রতিবাদ করলে সব চালক একজোট হয়ে যাত্রীদের লাঞ্ছিত করতে আসে। সিন্ডিকেট করে তারা ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াচ্ছে ও এলাহাবাদ বাজারের মতো রুটেও ৪০ টাকার বদলে ৫০ থেকে ৬০ টাকা আদায় করছে, কিন্তু নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দেখাতে পারে না। প্রশাসনের এখনই উচিত এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। ​এ বিষয়ে সিএনজি চালকদের সাথে কথা বললে তারা পার্টসের দাম ও যানজটের অজুহাত দেখালেও কোনো অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন করতে পারেননি। চরম এই যাত্রী ভোগান্তি নিরসন এবং রুটে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অনতিবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সিএনজি চালকদের এই স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।

Ad