দেবিদ্বারে আত্মহত্যার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় মা ও ভাতিজিকে খুন

  • প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ০৪:০৫
  • আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ০৪:০৫
WhatsApp Image 2026-09-21 at 3.48.40 PM

জিএম মাকছুদুর রহমান:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে আত্মহত্যার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় নিজের মা ও আট মাসের এক শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ইমন (২৪) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁর ভাবিকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ইমনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ​নিহত ব্যক্তিরা হলেন—বড়শালঘর গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী এবং অভিযুক্ত ইমনের মা পেয়ারা বেগম (৬২) ও তাঁর আট মাসের নাতনি ইসরাত। আহত ভাবি রাবেয়া বেগম (২৫) কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে ২০১৮ সালে পা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ইমন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তাঁর পায়ে দুই দফায় অস্ত্রোপচার করা হলেও পুরোপুরি সুস্থ হননি। এরপর থেকেই তাঁর আচার-আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়।​পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানান, গত রোববার দিবাগত রাতে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তখন তাঁর মা ও ভাবি তাঁকে নিবৃত্ত করেন। এ নিয়ে সোমবার সকালে মা ও ভাবির সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে তিনি নিজের মা পেয়ারা বেগমকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এ সময় মায়ের কোলে থাকা শিশু ইসরাতও আঘাতের শিকার হয়। পরে রাবেয়া বেগম বাধা দিতে গেলে তাঁকেও কুপিয়ে জখম করেন ইমন। ​চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পেয়ারা বেগম ও শিশু ইসরাতকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রাবেয়া বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্ত ইমনকে একটি ঘরে তালাবদ্ধ অবস্হায় হেফাজতে নেয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত ও ইমনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Ad