দেবিদ্বারে নির্মাণকাজে বাধা, চাঁদা দাবি ও জোরপূর্বক টিনের বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ
জিএম মাকছুদুর রহমান:
কুমিল্লার দেবিদ্বারে আকলিমা আক্তার নামে এক নারীর বসতবাড়িতে নির্মাণাধীন ভবনের কাজে বাধা প্রদান, চাঁদা দাবি ও জোরপূর্বক টিনের বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী শাহিনা আক্তার ও তাঁর স্বামী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে দেবিদ্বার পৌরসভার ছোট আলমপুরের বলিমন্দের বাড়িতে।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিধবা আকলিমা আক্তার তাঁর স্বামীর বসতবাড়িতে উঁচু ভবন নির্মাণ করছেন। কিন্তু প্রতিবেশী অভিযুক্ত শাহিনা আক্তার ও তাঁর স্বামী জোরপূর্বক ভবনের ভেতর টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা, চাঁদা দাবি ও নির্মাণকাজে বাধা প্রদান করেছেন। ভুক্তভোগী আকলিমা বেগম জানান, তাঁর স্বামী নেই এবং দেবররা প্রবাসে থাকেন। তাঁদের অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি স্বামী ও দেবরদের বাড়িতে দালান নির্মাণ করছেন। শুরুতে নির্মাণকাজে কোনো বাধা বা আপত্তি ছিল না প্রতিবেশী শাহিনার। কিন্তু গত কয়েকমাস ধরে নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে তিনি দাবি করছেন যে সেখানে তাঁর নিজের জমিও রয়েছে। সীমানা জটিলতার দাবি তুলে জোরপূর্বক নির্মাণের সিমেন্ট, ইট ও রড লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। তিনি আরও জানান, নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ায় তিনি থানা পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ তদন্তের পর তাঁকে নির্মাণকাজে কোনো বাধা নেই বলে জানায়। এরপর স্থানীয়দের মাধ্যমে একাধিক সালিশ হয়। সালিশে আমিন দ্বারা সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সামাজিক সালিশ অমান্য করে অভিযুক্ত শাহিনা আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলা খারিজ করে নির্মাণকাজে কোনো বাধা নেই মর্মে অনুমতি প্রদান করেন। তবুও অভিযুক্তরা তাঁর বাড়ির নির্মাণকাজে বাধা দিচ্ছেন এবং নির্মাণের সিমেন্ট ও ইট লুটপাট করছেন। গত দুই দিন আগে জোরপূর্বক টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা করা হয় বলেও জানান তিনি। তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। বাড়িতে পুরুষশূন্য হওয়ায় নিরুপায় হয়ে জোর জবরদখলে তিনি কোনো বাধা দিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহিনা আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন এবং ফের আদালতে মামলা করার কথা জানান। এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, "এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও প্রশাসনিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হবে।"



