ছয় মাসেও ফেরেনি প্রতিবন্ধী রাজ্জাকের দোকান, আশ্বাসেই থমকে আছে প্রশাসনিক উদ্যোগ

  • প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ০৪:০১
  • আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ০৪:০১
received_26753684377620007

সাব্বির আহমেদ নওগাঁ প্রতিনিধি:

ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও নিজের বরাদ্দ পাওয়া দোকানঘর ফিরে পাননি প্রতিবন্ধী রাজ্জাক। অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে থাকা দোকানটি উদ্ধারে প্রশাসনের একাধিক আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।গত বছরের ২৪ অক্টোবর নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নের ভূমি অফিসসংলগ্ন বাজারে ঘটে এই ঘটনা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া ছোট্ট একটি দোকানঘর যেটিকে ঘিরে ছিল রাজ্জাকের বেঁচে থাকার শেষ স্বপ্ন সেটিই ভেঙে দখল করে নেয় কিছু ব্যক্তি। স্থানীয়ভাবে তারা একটি রাজনৈতিক ব্যানারের পরিচয়ে সেখানে নির্মাণকাজও শুরু করে।ঘটনার পরপরই বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং প্রশাসন তদন্তের আশ্বাস দেয়। এমনকি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেও উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লিখিত নির্দেশনা জারি করা হয়। দায়িত্ব দেওয়া হয় সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে, এবং ৩০ দিনের মধ্যে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের নির্দেশও ছিল সেই আদেশে।

কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।আজও সেই দোকানঘর ফিরে পাননি রাজ্জাক।দীর্ঘ ছয় মাস ধরে দপ্তর থেকে দপ্তরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। শারীরিকভাবে দুর্বল এই মানুষটির কণ্ঠে এখন হতাশার ভার স্পষ্ট।

রাজ্জাক বলেন,ঘটনার পর থেকে অনেক জায়গায় গেছি, লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সবাই আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু আমার দোকানটা এখনো ফিরে পাইনি। আমার শরীর ভালো না। ওই ছোট্ট দোকানটাই ছিল আমার ভরসা। একটা চায়ের দোকান দিয়ে বাকি জীবনটা একটু শান্তিতে কাটাতে চেয়েছিলাম। এখন কিছুই নেই।স্থানীয়দের মাঝেও ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। তাদের মতে, অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দকৃত সম্পত্তি দখল হয়ে যাওয়ার পরও যদি তা দ্রুত উদ্ধার না হয়, তবে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি রয়েছে এবং শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন আশ্বাস এখনও দেওয়া হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ সেই পদক্ষেপ বাস্তবে রূপ নেবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা নেই।এদিকে প্রতিদিনের মতো আজও রাজ্জাক অপেক্ষা করছেন তার সেই ছোট্ট দোকানঘরটির জন্য। যেখানে হয়তো ফুটত এক কাপ চা, আর তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকত বেঁচে থাকার সামান্য স্বপ্ন।ছয় মাস আগে যে স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল, সেটি কি আবার গড়ে উঠবে?এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।এ বিষয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওশাদ হাসান বলেন,

বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। ইতোমধ্যে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে এবং বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে তার দোকানঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

Ad