দৌলতপুরে থামছে না অবৈধ ভাবে সরকারি চাল ক্রয় বিক্রয়, দ্বায় সারা বক্তব্য চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস আলী'র
শাহাদুর রহমান সুজন, মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ধামশ্বর এলাকায় আবারও ৩৪ বস্তা সরকারি চাল বোঝাই দুটি ভ্যান সন্দেহ জনক মনে হওয়ায় জিজ্ঞাসা করার জন্য গতিরোধ করে গণমাধ্যমকর্মীরা। জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে ভ্যান চালকরা গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ধামশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের খাদ্য বন্ধব কর্মসূচির চাল ঘিওর খাদ্য গুদামে যাচ্ছে। কিভাবে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের উওরে তারা জানান, স্থানীয় দুইজন ব্যবসায়ী দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর বাজারের নার্গিস নামের ডিলারের দোকান থেকে চাল গুলো ঘিওর উপজেলা খাদ্য গুদামে বিক্রির উদ্দেশ্য নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় সাইদুর নামের এক ব্যবসায়ী এসে এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "আমরা মাঝে মাঝে সরকারি চাল ৯০০ টাকা বস্তা হিসেবে ক্রয় করে ঘিওর সরকারি গুদামে শফিক নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ৯৬০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি করে থাকি।" এসময় তিনি দাবি করেন চালগুলো ধামশ্বর বাজারের ডিলার পয়েন্ট থেকে বিতরণ করা কার্ডধারীদের কাছ থেকে ক্রয় করছেন। কিন্তু এর কোন বাস্তব প্রমাণ দেখাতে পারেন নি।এ বিষয়ে ঘিওর খাদ্য গুদামে দায়িত্বে থাকা শফিকুলের কাছে জিজ্ঞেসা করলে তিনি অস্বীকার করেন। এরপর গুদামটিতে দায়িত্বে থাকা আরেক ব্যক্তির সাথে কথা বললে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে গুদামটির দায়িত্বে থাকা অস্থায়ী ঝাড়ুদার নবীন উজ্জ্বলের নামের আরেক ব্যক্তির কথা বলেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নবীন উজ্জ্বল জানান, আপনারা যে অভিযোগ তুলে ধরেছেন তার কিছুটা সত্যতা রয়েছে। আমাদের খাদ্য বান্ধবের ডিলার রফিক মৃর্ধা নামের এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে আমাদের এই গুদামে চাল আসে এবং বের হয়। নবীন উজ্জ্বল আরও বলেন ভাই সব জায়গায়ই তো সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই কার্যক্রম হয়ে থাকে বলেও তিনি জানান।এ বিষয়ে খাদ্য বান্ধবীর ওই ডিলার রফিক মৃর্ধার সাথে কথা বললে তিনি এসব কথা অসত্য বলে দাবী করেন।প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির কার্ড যে ব্যক্তিদের দেওয়া হয়েছে তাদের অনেকরই এই চালপর প্রয়োজন নেই। এজন্য কার্ডধারীরা ধামশ্বরের ডিলার এর নিকট থেকে চাল সংগ্রহ না করে ডিলারের কাছে বিক্রি করে দেন। আর একদল অসাধু ব্যবসায়ী ও কিছু সরকারি গুদামের ব্যক্তিরা এই চাল নিয়ে জমজমাট ব্যবসা পরিচালনা করেন।স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস উপযুক্ত ব্যক্তিদের কার্ড না দিয়ে যাদের কার্ড প্রয়োজন না তাদের মাঝে কার্ড বিতরণ করেছেন। উপযুক্ত ব্যক্তিরা এই কার্ড না পাওয়ার সুযোগে কিছু অসাধু ডিলার ও গুদামের দায়িত্বে থাকা অসাধু ব্যক্তিদের মাধ্যমে গোপনে এভাবেই নিয়মিত চাল বিক্রি করে আসছে। এখানে ধামশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস মিয়ার কার্ড বিতরণ নিয়েও জনগণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।গণমাধ্যম কর্মীরা এ বিষয়ে ধামশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস আলী কে তৎক্ষণাৎ অবগত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ভাবে "গঙ্গাচরণ রাজবংশী" নামে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্যকে পাঠিয়ে চালগুলো পরিষদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঊর্ধ্বতনও কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান। গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত জনতার সামনেই ইউনিয়নটির গ্রাম পুলিশ সদস্য গঙ্গাচরণ রাজবংশীকে চালের বস্তাগুলো গুনে বুঝে নিতে বলেন। তিনি এক এক করে মোট ৩৪ বস্তা চাউল বুঝে নিয়ে চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস আলীকে তার মুঠোফোনে জানান। তিনি চেয়ারম্যান মহোদয়কে বলেন, আমি আপনার কথা অনুযায়ী স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে দুই ভ্যানে ৩৪ বস্তা চাউল বুঝে পাইছি। পরবর্তীতে সেই চাল চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলীর নেতৃত্বে আবারও চলে যায়, অসাধু চক্রের হাতে। গ্রাম পুলিশ গঙ্গাচরণ জানান, চেয়ারম্যান মহোদয় এই চাল ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিতে বলেছেন। এ বিষয়ে ধামশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস আলীর নিকট জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, আমার গ্রাম পুলিশ গঙ্গাচরণ রাজবংশী আপনাদের তথ্য অনুযায়ী আপনাদের উপস্থিতিতে ৩৪ বস্তা চাল বুঝে পেয়েছে। কিন্তু আপনারা চলে যাবার পর ধামশ্বর এলাকার শিহাব এবং সাইদুর আমার গ্রাম পুলিশ গঙ্গাচরণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার নিকট থেকে চালের বস্তাগুলো ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। চাল উদ্ধারে আমি তাকে দৌলতপুর থানায় মামলা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।এদিকে ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও ধামশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী ও গ্রাম পুলিশ গঙ্গাচরণ চাল উদ্ধারে কোন আইনি পদক্ষেপ বা ভুমিকা পালন করেন নি।
এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশ গঙ্গাচরণ বলেন, আমি থানায় আর যাই নি। ওই দিনই সমস্যা সমাধান হয়েছে। চেয়ারম্যান আমাকে পরে দফাদার রমেলের সাথে কথা বলতে বলছে। আমাকে রমেল দফাদার বলেছেন, "আমি চেয়ারম্যান ও ইউএনও মহাদ্বয়ের সাথে কথা বলে ঝামেলা মিটমাট করেছি।" তাই আর কোন মামলা করা হয় নি।এ বিষয়য়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিলভিয়া স্নিগ্ধা জানান, এভাবে চাল ক্রয় বিক্রয়ের কোন সুযোগ নেই। আপনারা উপযুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করেন আমি অতিদ্রুত তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবো।এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আইয়ুব রায়হান বলেন, এসব বিষয় অত্যন্ত নিন্দনীয়। সরকারি চাল এভাবে ক্রয় বিক্রয় করা সম্পূর্ণ অবৈধ। আমি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবো।



