সাবেক এমপি ও চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজসহ স্ত্রী-পুত্রের বিরুদ্ধে দুদকের তিন মামলা বাউফলে ব্যাপক চাঞ্চল্য

  • প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫, বিকাল ০৬:৫৩
WhatsApp Image 2025-10-21 at 20.59.02_deec6241

বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা:

পটুয়াখালীর বাউফল আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আ স ম  ফিরোজ, তার স্ত্রী দেলোয়ারা সুলতানা এবং ছেলে রায়হান শাকিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথক তিনটি মামলা করেছে। সোমবার (২১ অক্টোবর) দুদকের পটুয়াখালী কার্যালয়ের উপ-পরিচালক তানভীর আহমদ বাদী হয়ে এসব মামলা দায়ের করেন।

দুদকের দায়েরকৃত মামলাগুলোর নম্বর যথাক্রমে—মামলা নং-৫, ৬ ও ৭; তারিখ: ২১/১০/২০২৫ খ্রি.

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ সরকারি চাকরিজীবী হয়েও জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৮৪ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তার মোট আয় ছিল প্রায় ১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অথচ তার নামে পাওয়া গেছে ১১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার সম্পদ। বৈধ আয়ের বাইরে থাকা এই সম্পদের উৎস তিনি দেখাতে ব্যর্থ হন।

একইভাবে, ফিরোজের স্ত্রী দেলোয়ারা সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ১ কোটি ১ লাখ ১ হাজার ৬৫৪ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেছেন। অনুসন্ধানে তার মোট বৈধ আয় ও ব্যয়ের তুলনায় এই সম্পদের উৎসও অসঙ্গতিপূর্ণ বলে দুদক জানায়।

অন্যদিকে, তাদের ছেলে রায়হান শাকিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—তিনি বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৪ কোটি ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৮ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। তদন্তে দেখা গেছে, তার নামে থাকা মোট সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা, কিন্তু বৈধ আয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে মাত্র ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার।

দুদক আইনের ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, এক পরিবারের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে একযোগে দুদকের মামলা দায়েরের ঘটনায় বাউফলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Ad