ফারুক চেয়ারম্যান হত্যার বিচার দ্রুত না-হলে পশ্চিম-টাঙ্গাইল অস্থির হয়ে উঠবে .........আজহারুল ইসলাম লাবু
সুলতান কবির :
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, দাইন্যা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শহীদ রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে আলোচনা সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহীদ ফারুক স্মৃতি সংসদ এর আয়োজনে টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাঙ্গাইল কোর্ট চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। দাইন্যা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন এর সভাপতিত্বে ও শহীদ ফারুক হোসেন এর ছোট ভাই ও দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম লাবু'র সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী, শফিকুর রহমান শফিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ শাফি ইথেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ভিপি. নুরুল ইসলাম, থানা মহিলা দলের সভাপতি পারুল আক্তার, সাধারণ সম্পাদক শিল্পী আজম প্রমুখ। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শহীদ শহীদ ফারুক হোসেন এর একমাত্র সন্তান ইঞ্জিনিয়ার ফুয়াদ ইসলাম অনিক ও ভাগিনা মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাজিত ইসলাম দিপু।সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ রফিকুল ইসলাম ফারুক চেয়ারম্যান ছিলেন দাইন্যা ইউনিয়নের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তাঁর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বক্তারা।অন্যথায় বর্তমানে শান্ত টাঙ্গাইলের পশ্চিমাঞ্চল অস্থির হয়ে উঠবে। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বিএনপি, ছাত্রদল যুবদলসহ দাইন্যা ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, রফিকুল ইসলাম ফারুক চেয়ারম্যান টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি প্রাত ভ্রমণে বের হন। আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। প্রথমে সদর থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে।তবে হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার বিচার শেষ হয়নি। দীর্ঘদিনেও বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।



