সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ হয়নি ঘিওর খাদ্য গুদাম ব্রিজের অ্যাপ্রোচ- সাময়িক সমাধানে কুদরত

  • প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ০১:৫৫
  • আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ০১:৫৫
1000267660

শাহাদুর রহমান সুজন, মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্য গুদাম সংলগ্ন ব্রিজের নির্মাণকাজের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও এখনো ব্রিজটির অ্যাপ্রোচ নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যানবাহন চালকরা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে আশপাশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের দুই পাশের অ্যাপ্রোচে মাটি না থাকায় স্বাভাবিকভাবে যানবাহন ও পথচারী চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা ও বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই ব্রিজ পার হতে হচ্ছে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও রয়েছে।

সম্প্রতি স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবিরের নির্দেশনায় ব্রিজটির দুই পাশে সরে যাওয়া মাটি ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘিওর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান খান কুদরতের নেতৃত্বে এ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে মাটি ফেলে সমস্যার সমাধান হবে না। ব্রিজের দুই পাশে আরসিসি ঢালাইসহ টেকসই অ্যাপ্রোচ নির্মাণ করে স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের নির্মাণকাজের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও অ্যাপ্রোচ নির্মাণ না হওয়া সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতারই বহিঃপ্রকাশ। প্রতিদিন শত শত মানুষ ও শিক্ষার্থী এ পথে চলাচল করেন। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ঝুঁকি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তাদের প্রশ্ন—নির্মাণকাজের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও যদি ব্রিজের গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ অসম্পূর্ণ থাকে, তাহলে প্রকল্পের অগ্রগতি ও কাজের মান তদারকি করছে কে?


স্থানীয়দের দাবি, শুধু দায়সারা মাটি ভরাট নয়, দ্রুত প্রকল্পের অসম্পূর্ণ অ্যাপ্রোচ নির্মাণ শেষ করে ব্রিজটিকে চলাচলের উপযোগী ও নিরাপদ করতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এখন দেখার বিষয়, দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে এলাকাবাসীকে—নাকি এবার সত্যিই স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, ব্রিজের অ্যাপ্রোচের মাটি সরে যাওয়ার বিষয়টি তারা অবগত আছেন। বর্তমানে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাটের কাজ করা হচ্ছে। তবে স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধানের জন্য ব্রিজের দুই পাশে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও আরসিসি কাজের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

Ad