হাফসা—একটি ফুটফুটে ফুলের নাম, যার স্বপ্ন আজ মাটির কবরে

  • প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ০৩:০৮
WhatsApp Image 2025-11-16 at 12.27.29_4a5bbc2b

মোঃ মনিরুজ্জামান (মুন্না), স্টাফ রিপোর্টার 


পাবনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর ওয়ার্ড, উত্তর শালগাড়িয়ার সরদারপাড়া একটি সাধারণ মহল্লা। সেই মহল্লাতেই নানীর সাথে বাস করত মাত্র ৯ বছরের ফুটফুটে শিশু হাফসা। ক্লাস টু-তে পড়ে, হাসিখুশি, লাজুক, চঞ্চল ছোট্ট মেয়েটি।

প্রবাসী বাবা হাফিজুর রহমানের দুই সন্তানের একটি—এক ভাই, এক বোন।

পরিবারের সব ভালোবাসা, সব হাসি, সব আলো—থেমে ছিল এই শিশুটিকে কেন্দ্র করে।


কিন্তুু কাল রাতে সেই আলো নিভে গেছে।

নরপিশাচের লালসা আর অমানবিক বর্বরতা ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে তার ভবিষ্যৎ, তার জীবন, তার ডানাগুলো।


 বিকেল থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি, অন্ধকারে মিলিয়ে যায় হাফসা


শনিবার সন্ধ্যা ৬টা।

স্বাভাবিক দিনের মতোই বাড়ির পাশে খেলছিল হাফসা।

মা ভেবেছিলেন, একটু পরেই এসে দরজায় কড়া নাড়বে তার মেয়ে।


কিন্তু অপেক্ষা শুধু দীর্ঘ হতে থাকে।

মেয়েটি আর ফেরে না।

ঘরে ঘরে খোঁজ, পাড়া-প্রতিবেশীর ছুটোছুটি, মাইকিং ও কারা হয় পরিবারের পক্ষ্য থেকে।

সবাই মরিয়া হয়ে খুঁজতে থাকে শিশু হাফসাকে।

কিন্তু কোথাও কোনো সাড়া নেই।

পুরো এলাকায় নেমে আসে আতঙ্কের ছায়া।


দুই ঘণ্টা পর—একটি পাটিতে মোড়ানো নিথর দেহ...

রাত ৮টার দিকে বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত ঝোপে

কাদা মাখা খেজুরের পাটিতে মোড়ানো ছোট্ট শরীরটি দেখতে পান স্থানীয়রা।


এক মুহূর্তে পুরো মহল্লায় কান্না, চিৎকার, ভেঙে পড়া মানুষের আর্তনাদ—

“হাফসাকে মেরে ফেলেছে…!”


একটি ছোট্ট ফুলকে নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়া হলো চরম বর্বরতায়।

দেখতে না চাইলেও সত্যি আর চোখ ফেরাতে দেয়নি।


যেন পুরো গ্রাম স্থবির হয়ে গেল—

হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল পাবনার মানুষ।


চোখের পানিতে তদন্ত—কিন্তু হাফসা আর ফেরে না


খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন

সার্কেল এএসপি শরিফুল ইসলাম, ওসি আব্দুস সালাম, তদন্ত ওসি সঞ্জয় কুমার,

পিবিআইসহ সাতটি গাড়িভর্তি পুলিশ বাহিনী।


প্রতি ইঞ্চি জায়গা খতিয়ে দেখা হয়, আলামত সংগ্রহ করা হয়।


কিন্তু তদন্ত যত এগোয়—

ততই স্পষ্ট হয়, আর কোনোদিন “মা” বলে ডাকবে না হাফসা।

আর কোনোদিন স্কুলব্যাগ কাঁধে ঝুলবে না।

আর কোনোদিন বাবার ভিডিও কলে হাসিমুখ দেখাবে না।

হাসপাতালে নেওয়ার পর

পাবনা মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরত চিকিৎসকরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

পুলিশও কাঁদেছে।

মানুষও কেঁদেছে।

চিকিৎসকরাও কাঁদছে। 

কাঁদছে গণমাধ্যম কর্মীরাও 

কারণ ৯ বছরের এমন নিষ্পাপ শিশুকে দেখে অশ্রু থামিয়ে রাখা যায় না।


প্রাথমিক ধারণায় শিশুটির ওপর বর্বর নির্যাতন ও হত্যার ইঙ্গিত মিলেছে।

তবে বিস্তারিত ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ।


সন্দেহভাজন রমজান ও সাব্বির হেফাজতে—রাত ১.১৫ minute-এও CID তদন্ত চালাচ্ছে...........


রমজান (২৮) ও সাব্বির (২৫) নামের দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

রাত ১টা ৪০ মিনিট, ঘুমহীন রাতে পাবনার বাহির থেকে আসা সিআইডি’র বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত চালায়।

উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পৌঁছে যান শালগাড়িয়ায়।

কারণ এ ঘটনা আর সাধারণ ঘটনা নয়—এটা পুরো দেশের বিবেকের প্রশ্ন।


বখাটেদের আড্ডাস্থল ছিল জায়গাটি—কেউ বলতে সাহস পায়নি


স্থানীয়রা জানিয়েছেন—

ঘটনাস্থল দীর্ঘদিন ধরে ছিল বখাটে, মাদকসেবীদের আড্ডা।

কিন্তু ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনি।


আজ সেই নীরবতার শাস্তি দিল এই নিষ্পাপ শিশুটি।

এ যেন নীরবতা, অবহেলা আর সমাজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।


আজ শালগাড়িয়া, সরদারপাড়া সাহ পুরো পাবনাবাসী কাঁদছে।

শোক, রাগ, ক্ষোভে মানুষ স্তব্ধ।

একটি শিশুর মৃত্যু পুরো এলাকার নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ করে দিয়েছে।


হাফসা শুধু একটি পরিবার নয়—হাফসা আমাদের সকলের সন্তান


ভাবুন তো—আপনার সন্তানের বয়স ৯।

হাতে খাতাপেন্সিল, ব্যাগে বই, চোখে ভবিষ্যতের রোদ্দুর।

একটি ছোট্ট ভুলভুলাইয়া খেলার বয়স।

সেই মেয়েটি আজ নেই।


এই মৃত্যু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে—

 আমাদের শিশুরা কোথায় নিরাপদ? সমাজ কি মানুষের না?


সাধারন জনগনের দাবি—


হাফসার জন্য আমরা শুধু শোক করছি না—

আমরা রাগ করছি। আমরা প্রতিবাদ করছি।

কারণ মানবতার ওপরে এর মতো আঘাত আর হতে পারে না।

সকল ১০ ঘটিকা থেকে হাফসার ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছিলে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরগে। 


হাফসা নেই, কিন্তু তার মার আর্তনাদ পুরো দেশকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে


পাবনা সদর থানার হিমঘরে সারারাত শুয়েছিলো ছোট্ট হাফসা শরির টা। তার মা হিম ঘরের দরজার ধরে বসে ছিল। নিস্তব্ধ, ঠাণ্ডা, ভাষাহীন।

ঐ দিকে বিদেশ প্রবাসী বাবা গতকাল ছুটছে বিমানে

তার কলিজার টুকরো মেয়েকে শেষবারের মতো দেখতে।

এ দৃশ্য কল্পনা করলেই বুক ভেঙে যায়।

পাবনার সর্বস্তরের জনগণ সুস্থ তদন্ত ও হাফসার বিচার দাবি করেন

Ad