দেবিদ্বারে শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

  • প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ০৩:৪৩
  • আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ০৩:৪৩
WhatsApp Image 2026-08-21 at 8.36.41 PM

জিএম মাকছুদুর রহমান:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলমকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২১ আগস্ট (শুক্রবার) দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজার এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক খোরশেদ আলম দেবিদ্বার উপজেলার ব্রাহ্মণখাড়া গ্রামের প্রয়াত শব্দর আলীর ছেলে। ​মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই দুপুরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে ১০ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওই দিন বিকেলেই বিক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে এনে গণধোলাই দেয় এবং বটতলা বাজারের একটি চা দোকানে হাত বেঁধে আটকে রাখে। এ নিয়ে স্থানীয়রা বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলও করে। খবর পেয়ে ওই দিন রাত ১১টার দিকে দেবিদ্বার থানা-পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ​এ ঘটনার পর দেবিদ্বার থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাদা বাদী হয়ে খোরশেদ আলমকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এই মামলায় পরবর্তীতে আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে শিশুটির ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে শিক্ষক খোরশেদ আলমের ওপর হামলার অভিযোগে তাঁর ছেলে আরিফ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষককে মারধরের মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা আদালত থেকে জামিন পান। শিক্ষক সমিতির নেতারাও শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছিলেন। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষক খোরশেদ আলমকে ক্ষমা চেয়ে অনৈতিক কাজ না করার আকুতি জানাতে দেখা যায়। ​দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, শিশু নির্যাতন মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক খোরশেদ আলম আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয় এবং আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

Ad