মুরাদনগরে অবৈধ ড্রেজারের দাপট, হুমকিতে কৃষিজমি ও পরিবেশ
জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ড্রেজার দিয়ে কৃষিজমি ভরাট ও মাটি কাটার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ড্রেজার ব্যবহার করে আবাদি জমি নষ্ট করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন কমে যাচ্ছে ফসলি জমির পরিমাণ, অন্যদিকে পরিবেশ ও জনজীবনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হায়দরাবাদ ইউনিয়নের সোনারামপুর উত্তর পাড়া (আন্দিকুটের দক্ষিণ মাথা) এলাকায় আজিজ বেপারির বাড়ির পূর্ব পাশে এরশাদ নামের এক ব্যক্তি অবৈধ ড্রেজার দিয়ে সুধন মিয়ার জমি ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসী একাধিকবার বাধা দিলেও তিনি তা উপেক্ষা করে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া একই ইউনিয়নের হায়দরাবাদ গ্রামের উত্তর পাড়ায় মুকলেছ মেম্বারের বাড়ির উত্তর পাশে হোরন মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি কৃষিজমি ভরাটে ড্রেজার ব্যবহার করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে আশপাশের জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ড্রেজারের মাধ্যমে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটা ও ভরাটের কারণে অনেক জায়গায় জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও জমি নিচু হয়ে পানি জমে থাকছে, আবার কোথাও উঁচু হয়ে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং ফলন কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ধুলাবালি, শব্দদূষণ ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যাও তৈরি হচ্ছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কিছু ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযান হলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না ড্রেজার বাণিজ্য। ফলে সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা দিন দিন হতাশ হয়ে পড়ছেন। সচেতন মহল বলছেন, কৃষিপ্রধান এলাকায় এভাবে ফসলি জমি ধ্বংস হতে থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই অবৈধ ড্রেজার ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে কৃষিজমি রক্ষা পাবে এবং পরিবেশ বিপর্যয়ও অনেকাংশে কমে আসবে।



