গাজীপুরে দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে হকারদের উপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করেন আরএনবি ইনচার্জ ইমরান
স্টাফ রিপোর্টারঃ
গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলগেট কালি মন্দির এলাকায় দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পাওয়ায় রবিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে হকারদের ওপর আকস্মিক আক্রমণ ও গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে আরএনবি ইনচার্জ ইমরানের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় হকারদের দাবি, তিনি যোগদানের পর থেকে নিয়মিত চাদা আদায় করতেন। সম্প্রতি তা না দেওয়ায় অতর্কিতভাবে তাদের স্টল ভাঙচুর, পণ্য সরিয়ে দেওয়া এবং কিছু হকারকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে থাকা অনেক হকারকে দাবিকৃত চাদার টাকা না দেওয়ায় ধাওয়া করে আটক করা হয়। ভয়ে অনেকেই দোকানপাট গুটিয়ে পালিয়ে যান।
ভূক্তভোগী বাবুল বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে কালি মন্দিরের সামনে আদা, রসুন, পেয়াজের ব্যবসা করে আসছি। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে আরএনবি ইনচার্জ ইমরান দায়িত্ব পালন করেছিলেন তখন তাকে প্রতি পাতি ৫০ টাকা করে দিতাম। বর্তমানে গত অক্টোবর মাসে আরএনবি ইনচার্জ হিসেবে আবারও যোগ দান করেন ইমরান। সে এখন প্রতি পাতি ২০০ টাকা করে চাদা দাবি করেন এবং আরো বলেন আমি আমার উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে আবার গাজীপুর এসেছি। এক পর্যায়ে আমি দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করিলে সে আমাকে বেপরোয়া লাঠি চার্জ করে এবং আমার ব্যবহৃত ডিজিটিাল মিটার স্কেল ভেঙ্গে ফেলে। ভূক্তভোগী রাজিব মিয়া ও হাবিবসহ আরো অনেকে একই বক্তব্য দেন।
এ বিষয়ে হকার শিল্পী আক্তার বলেন, আমি এ এলাকায় প্রায় ১০ বছর যাবত আলু, পেয়াজ ও আদার ব্যবসা করে আসছি। আমরা বিগত দিনে চাদা হিসেবে প্রতি পাতি ৫০ টাকা করে দিয়ে আসছি। গত অক্টোবর মাসে আরএনবি ইনচার্জ ইমরান যোগ দান করার পর থেকে সে আমাদের হকারদের কাছ থেকে প্রতিদিন পাতি প্রতি ২০০ টাকা দাবি করে। নজরুল ইসলাম ভান্ডারী পাতি প্রতি ৫০ করে টাকা চাদা তুলে ইমরারে কাছে দিতেন, প্রতিদিন ৩০০ পাতি থেকে টাকা তুলা হয়।
চাদাবাজি ও মারধরের বিষয়ে জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার ও রেলওয়ে পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ জানান, আমরা এই বিষয়ে কিছুই জানিনা। মারধরের বিষয় আমাদের আরএনবি ইনচার্জ ইমরান জানানোর পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি দুই জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার কাছে আটককৃতদের বিষয়ে কোনো কিছুই জানিনা।
উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে আবার গাজীপুর আসার বিষয়ে আরএনবি ইনচার্জ ইমরানের কাছে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এবং আটককৃত ব্যক্তিদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানালে তারা আটককৃতদের ঢাকা নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। এবং তাদের বিরুদ্ধে রেলওয়ে আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
এ বিষয়ে হকাররা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। আমাদের উপর এমন আচরণ অন্যায়। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কথা বলে ইচ্ছেমতো ভাঙচুর বা গ্রেফতার করা ঠিক নয়।
ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।


