পাইকারদী বাজারে কোরবানির পশুর হাটে প্রাণের স্পন্দন, জমে উঠেছে বেচাকেনার উৎসব।

  • প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, বিকাল ০৭:৪৮
  • আপডেট: ২৩ মে ২০২৬, বিকাল ০৭:৪৮
WhatsApp Image 2026-05-23 at 6.56.59 PM

কামরুল হাসান জুয়েল ,নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি:

পবিত্র ঈদুল আজহার আগমনী বার্তা ঘনিয়ে আসতেই নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী পাইকারদী বাজার যেন রূপ নিয়েছে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরু-ছাগলের ডাক, ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম আর মানুষের কোলাহলে মুখর হয়ে উঠছে পুরো হাট এলাকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানা জাতের পশুতে ভরে উঠেছে হাটের প্রতিটি কোণা, যা ঈদের আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তুলছে।হাটের ইজারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো: আহসান উল্লাহ, সভাপতি আমদিয়া ইউনিয়ন যুবদল। তার নিবিড় তত্ত্বাবধানে হাটে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এসেছে নতুন মাত্রা। হাটে প্রবেশ থেকে শুরু করে পশু ক্রয়-বিক্রয় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যেন থাকে স্বস্তি ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ—এ লক্ষ্যেই তিনি ও তার টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।হাট কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মাহাবুব আলম, সভাপতি আমদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি, বলেন—“পাইকারদী বাজারের এই পশুর হাট শুধু একটি কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি আমাদের এলাকার অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে হাটকে সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও জনবান্ধব রাখতে কাজ করছি। কোনো প্রকার অনিয়ম, চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের সুযোগ নেই—এ বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। ক্রেতারা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের পছন্দের পশু কিনতে পারেন এবং বিক্রেতারাও তাদের পশুর ন্যায্য মূল্য পান, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক—এই প্রত্যাশাই আমাদের।”হাটের সার্বিক কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করছেন মো: বশির আহম্মেদ। তার সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় হাটের প্রতিটি কার্যক্রম চলছে সুশৃঙ্খলভাবে, যা ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে।হাটে আগত ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর পশুর সরবরাহ ভালো হওয়ায় দামের মধ্যেও রয়েছে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা। বিভিন্ন আকার ও দামের পশু সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষও তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানির পশু কিনতে পারছেন। অন্যদিকে বিক্রেতারাও আশাবাদী, ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাড়বে বিক্রির পরিমাণ এবং তারা কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখবেন।নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। হাট এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতারা নিশ্চিন্তে তাদের লেনদেন সম্পন্ন করতে পারছেন।

সব মিলিয়ে পাইকারদী বাজারের এই কোরবানির পশুর হাট এখন শুধু একটি বাজার নয়—এটি হয়ে উঠেছে মানুষের মিলনমেলা, আনন্দ-বিনিময়ের ক্ষেত্র এবং গ্রামীণ অর্থনীতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ঈদের আনন্দকে আরও গভীর ও অর্থবহ করে তুলতে এই হাটের ভূমিকা নিঃসন্দেহে অনন্য।

Ad