শেরপুরে নোকাই নদী খননের অভাবে জলাবদ্ধতায় নষ্ট হচ্ছে শত শত একর জমির ধান
শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের নোকাই নদী দীর্ঘদিন খনন না করায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। নদীর নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে সদর উপজেলার দুই ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসলি জমির ধান জলাবদ্ধতায় নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।স্থানীয় কৃষকেরা জানান, লোকাই নদীটি দীর্ঘ দিন খনন না করায় এবং পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বাজিতখিলা ইউনিয়নের লোকাইরপাড়, পূর্ব কুমরী, বড়ইতার, মধ্য কুমরী, নয়ানীপাড়া, মুদিপাড়া, কৃষ্ণপুর এবং গাজীর খামার ইউনিয়নের বুড়িয়ারপাড় গ্রামের শত শত একর জমির ধান জলাবদ্ধতায় নষ্ট হচ্ছে। পানি নামার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছরই ফসলি জমিতে জমে থাকে বৃষ্টির পানি।স্থানীয়রা জানান, নোকাই নদী এক সময় ৬টি বড় বিলের পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ ছিল। কিন্তু নদীর দুই তীর ভরাট হওয়া এবং পলি জমার কারণে লোকাই নদীটি এখন সরু নালায় পরিণত হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে আশপাশের গ্রামগুলোতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় এই পানি বসতভিটা ও গ্রামীণ সড়কেও ঢুকে পড়ে।স্থানীয় ইউপি সদস্য এস এম শামছুল হক বলেন,১৫-২০ বছর আগে একবার এই খালটি খনন করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় পাড়ের মাটি ধসে এবং সংস্কারের অভাবে খালটি ভরাট হয়ে গেছে। খালের দুই পাশে টোকপুরি বিল ও ভোরিয়ার বিল অবস্থিত। যেখানে প্রায় ৬০০ একর জমিতে ধান চাষ করা হয়। বর্ষাকালে বিলে পানি জমে গেলে এই ভরাট হওয়া খালের কারণে পানি নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে কৃষকদের শত শত একর জমির পাকা ধান নষ্ট হয়ে যায়। আমি বর্তমান সরকারের কাছে বিশেষভাবে আবেদন জানাই যাতে অতি দ্রুত এই খালটি পুনরায় খনন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।স্থানীয় কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, অতিবৃষ্টিতে খালের পানি উপচে আমাদের এলাকার শত শত একর জমির ধান তলিয়ে যায়। এই ধানগুলো পেকে গিয়েছিল এবং কাটার সময় হয়ে এসেছিল। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির পানি চলে আসায় এবং খাল ভরাট থাকায় পানি সরতে পারছে না। এতে ধান পানিতে পচে নষ্ট হয়তাছে। এই খালটি অনেক আগে খনন করা হয়েছিল, যা এখন ভরাট হয়ে গেছে। পানি যাওয়ার কোনো পথ নাই। আমাদের এলাকার বহু কৃষক এই ধানের ওপর নির্ভরশীল। ধান নষ্ট হয়ে গেলে আমাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। আমি বর্তমান সরকারের কাছে অনুরোধ জানায় যাতে অতি দ্রুত এই খালটি খনন করে। কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে খাল উপচে পানি বিলে ঢুকে পড়েছে। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামার কোনো জায়গা নাই, বিলে প্রায় ৬০০-৭০০ একর জমির ধান রয়েছে। পানি জমে থাকার কারণে আধাপাকা ধানগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এই চরম দুর্দশা থেকে বাঁচাতে আমরা সরকারের কাছে অতি দ্রুত খালটি পুনরায় খনন করার জন্য জোর দাবি জানাই।কৃষক গোলাপ হোসেন বলেন, বিলে আমরা অনেক টাকা খরচ করে ধান চাষ করি কিন্তু বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে ধান পানির নিচে ডুবে যায়, আমরা ফসল ঘরে তুলতে পারি না, লোকাই নদীটি যদি খনন করা হতো তাহলে বিলের পানি নেমে যেতো আমরা আবাদ ফসল করে ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারতাম, সরকারের কাছে আমরা দাবি জানায়, সরকার যদি নদী খনন করে দেয় তাহলে আমাদের কৃষকদের কষ্ট দুর হবে।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ২-৩টি বিলের জমিতে এখন আর আমন ধান রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ধান রোপণ করলেও তা পানির নিচে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর এই সমস্যার কারণে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।কৃষকদের জীবিকা এবং এলাকার জনজীবন স্বাভাবিক করতে নোকাই নদী দ্রুত পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, দ্রুত নদীটি খনন করা না হলে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে। বিষয়ে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, "শেরপুর জেলায় বর্তমানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় কোনো খাল খনন কার্যক্রম বর্তমানে চলমান নেই। আমাদের যে পরিকল্পনাধীন যে প্রোগ্রাম রয়েছে, তার আওতায় আমাদের বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে জরিপ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের নোকাই নদী পুনঃখননের যে আমরা আবেদন পেয়েছি, সেটা আমরা অতি য় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"শেরপুরে নোকাই নদী খননের অভাবে জলাবদ্ধতায় নষ্ট হচ্ছে শত শত একর জমির ধান



