নওগাঁয় মাঠ কর্মী ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার গরু বিতরণে অনিয়ম, ভুক্তভোগীদের তদন্ত দাবী
নওগাঁ প্রতিনিধি ,সাহেব আলী :
বাংলাদেশ সরকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের উন্নয়ন করতে চাইলে ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কর্মচারীরা উন্নয়ন প্রকল্পে চালাচ্ছেন দুর্নীতি ও হরিলুট।এমনটাই দাবী সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের।নওগাঁ সদর উপজেলা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মাঝে গরু বিতরনে গরু না দিয়ে প্রাণিসম্পদ অফিসের মাঠ কর্মী ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার গরু আত্মসাৎ করার অভিযোগ করেছে গরু না পাওয়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলো । ভুক্তভোগীদের দাবী তাদের ও মৃত ব্যাক্তির নামে গরু তুলে গরু আত্মসাৎ করে দিয়েছে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং নিয়মিত খাদ্য বিতরন দেখাচ্ছে তাদের নামে। কখনো বড় গরুর বদলে ছোট গরু আবার কখনো রোগে আক্রান্ত বাছুর দিয়ে নয়-ছয় বুঝিয়ে দেওয়া হয় অসহায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের। এলাকা ঘুরে দেখা যায় অনেকের প্রাণিসম্পদ অফিসের তালিকায় নাম থাকলে ও গরু ও গরুর খাদ্য কিছুই পায়নি তারানওগাঁ সদর উপজেলায় সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থ সামাজিক জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে নওগাঁ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের আওতায় ৪৪ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারের মাঝে ২২টি বকনা ও ২২টি ষাড় বাছুর বিতরণ করা হয়। প্রতিটি বকনা ও ষাড় বাছুরের ওজন মূল্য ঠিক আছে কিনা প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে জনমনে। ভালো গরু দেওয়া হবে বলে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে সদস্যদের থেকে খরচের কথা বলে। অভিযোগ কারী অশোক বলেন আমার নাম ও ভোটর আইডিকার্ড ব্যাবহার প্রাণিসম্পদ অফিসের প্রতিমার মোবাইল নম্বর কওে গরু উঠায় নিয়েছে শুধু আমার নয় এরকম ৫ জায়গায় একই মোবাইল নম্বও ব্যাবহার কওে তাদেও গরু উঠায় নিয়েছে এই অফিসের লোকজন। এমন কি মৃত ব্যাক্তির নামের গরু বিতরন দেখিয়ে তারা নিয়েছে। এর সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবী করছি।মৃত সুমনের মা বুলি উরাও বলেন আমার ছেলে মারা গেছে শুনেছি তার নামেও গরু এসেছে কিন্তু গরু ও গরুর খাদ্য আমরা কিছুই পায়নি, এখন শুনছি অফিসের লোকজন তুলে খেয়েছে।কুমরইল গ্রামের দিলীপ ভুইমালী বলেন আমার গরু ও মেওে দেওয়া হয়েছে আমি ও পায়নি আমি এর সঠিক বিচার দাবি করছি।সচেতনমহল মনে করেন উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা কোনভাবে এর দায়রাতে পারে না, কারণ ১ বছর আগে ৪৪ টি গরু বিতরণ করা হয়। যাদের তালিকায় নাম থাকা সত্বেও তারা গরু পায়নি তাহলে তাদের নামের সরকারি খাদ্য কি ভাবে অন্য জন উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, এব্যাপারে তিনি কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি কেন, এটা আমাদের প্রশ্ন।এ নিয়ে নানা সমালোচনার ঝড় উঠেছে এলাকায়।সরকার যখন তাদের উন্নয়নে কাজ করছে তখন সরকারী কর্মচারীদেও তখন চুরি করার হিরিক পড়েছে এতে সরকরের সুনাম নষ্ট হচেছ। এদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি হওয়া দরকার।নিয়ম রয়েছে- একই ব্যক্তি বারবার সদস্য থাকতে পারবেন না। অথচ একই ব্যাক্তি তিন বার অনুদান নেওয়ার প্রমানও মিলেছে। এ সদস্য নামের তালিকার বিষয়ে নৃগোষ্ঠীর লোকজন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কাছে মৌখিক অভিযোগ জানান। তদন্ত করার বিষয়টি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা। তদন্তের বিষয়ে তোয়াক্কা না করে তাদের তালিকাকে প্রাধান্য দিয়ে এসব গরু বিতরণ করেন প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা।সদর উপজেলার প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আমার অফিসের সাথে এর কোন সম্পৃক্ততা নেই । তৎকালীন ইউএনও উপস্থিতিতে গরু বিতরণ করা হয়েছে। আমার কোন কর্মী জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন মাহমুদ বলেন কোন অফিসার জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন ছাড় দেয়া হবেনাজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে, কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।



