জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না: মতিউর রহমান আকন্দ
রকি হাসান ,স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া এ জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দেশের রাজনৈতিক সংস্কারে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন জরুরি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জের নেহাল গ্রিন পার্ক মিলনায়তনে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলন-২০২৬-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গত ১৭ বছরে জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে দাবি করে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও এরশাদের শাসনামলে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সময়ে জামায়াত-শিবিরের ৪৬ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জামায়াত জুলাই সনদ বিশ্বাস করে না—এ কথা কি পাগলেও বিশ্বাস করবে? গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি যে কথা বলেছেন, তা আধাসত্য।”
১৯৯১ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই সময়ে জামায়াতে ইসলামী নিঃশর্তভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে সমর্থন দিয়েছিল। জামায়াতের সমর্থন না থাকলে বিএনপির রাজনৈতিক অস্তিত্ব কী হতো, তা ভেবে দেখার বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো জোট হয়নি; বরং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দুই দল একসঙ্গে আন্দোলন করেছিল।
সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, গত আট মাসে সীমান্তে ১৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উল্লেখযোগ্য তৎপরতা দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “জনগণের সঙ্গে আপনারা প্রতারণা করেছেন, জনগণ তার জবাব দেবে।” জামায়াতে ইসলামী সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপির চেয়ে ৫০ গুণ ভালোভাবে দেশ পরিচালনা করবে দাবি করে তিনি বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় যাবে।
কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে জেলা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: প্রকাশের আগে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঠিক উদ্ধৃতি, ১৯৯১–১৯৯৬ সময়ে ৪৬ জন নিহত হওয়ার দাবি, গত আট মাসে সীমান্তে ১৩টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য এবং সম্মেলনে উপস্থিত অন্য নেতাদের নাম ও পদবি নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করে নেওয়া উচিত। বক্তব্যগুলো বক্তার দাবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে; স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে নয়।

.webp)

