কালবৈশাখীর আঘাতে কুমিল্লাজুড়ে বিপর্যয়, ঘরবাড়ি ধ্বংস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লায় কালবৈশাখী ঝড়ের ভয়াবহ তাণ্ডবে জনজীবন সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের আঘাতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বসতবাড়ি, গাছপালা এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শতাধিক ঘরবাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং হাজার হাজার গাছ উপড়ে বা ভেঙে পড়েছে।ঝড়ের সময় বজ্রপাতে পৃথক দুই ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের পূর্ব মাইজখার গ্রামের আমির হোসেনের স্ত্রী নাজমা আক্তার (৪৫) এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি গ্রামের শামসুল আলম (৪৫)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজমা আক্তার মাঠ থেকে ধান কেটে বাড়ি ফেরার পথে আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি ছিলেন এক ছেলে ও তিন কন্যা সন্তানের জননী। অন্যদিকে শামসুল আলম সকালে মাছ ধরতে গেলে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সূত্রে জানা গেছে, কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার ১৭টি উপজেলাতেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ো বাতাসে বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়া, ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হওয়া এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে বহু এলাকা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন থাকে। তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৭১টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, ৫৫০টি মিটার নষ্ট হয়েছে, এক হাজারেরও বেশি স্থানে লাইনের ওপর গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং শত শত স্থানে তার ছিঁড়ে যায়। এতে প্রায় সাতাশ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ঝড়ের প্রভাবে শিক্ষা কার্যক্রমেও চরম ভোগান্তি দেখা দেয়। বিভিন্ন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকায় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা মোমবাতি ও চার্জার লাইটের আলোতে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন। চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে মেরামত কাজ চলমান রয়েছে।



