সওজের সংস্কারকাজে প্রাণ ফিরছে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে
৩৫ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মধ্যে সংস্কার হয়েছে ১৯ কিলোমিটার, স্বস্তিতে চালক ও যাত্রীরা
রকি হাসান, স্টাফ রিপোর্টার:
একসময় খানাখন্দ, বড় বড় গর্ত, কাদা ও ধুলাবালিতে দুর্ভোগের আরেক নাম ছিল কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী-বাজিতপুর-ভৈরব মহাসড়ক। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তেন চালক, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে সড়কটি সরু হওয়ায় পুলেরঘাট, কটিয়াদী ও পিরিজপুর বাজার এলাকায় প্রায়ই সৃষ্টি হতো যানজট। তবে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) চলমান উন্নয়ন ও সংস্কারকাজে বদলে যেতে শুরু করেছে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের চিত্র। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি।
সড়কটির উন্নয়ন ও সংস্কারের ফলে বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পুলেরঘাট বাজার, কটিয়াদী বাজার এবং বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর বাজার এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে। সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কারকাজের ফলে যান চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি এসব বাজারে যানজট কমারও আশা করছেন স্থানীয়রা।
কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-কটিয়াদী-ভৈরব মহাসড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৫৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সড়ক অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মেরামত কর্মসূচির আওতায় ১৯ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে আরও ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়কাংশে সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত আরও ৯ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া চলছে। অবশিষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মহাসড়কটির উন্নয়নকাজে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাজারের ইজারাদার মো. আঙ্গুর মিয়াসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, আগে সড়কটির কারণে পিরিজপুর বাজারে প্রায়ই যানজট লেগে থাকত। বর্তমানে সড়ক প্রশস্ত হওয়ায় ব্যবসায়ী, দূরপাল্লার যানবাহন ও যাত্রীদের চলাচলে সুবিধা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাজের গুণগত মানও সন্তোষজনক বলে মনে করছেন তাঁরা।
স্থানীয় কয়েকজন অটোরিকশাচালক ও ট্রাকচালক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চালাচ্ছেন। আগে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চলাচলে অনেক কষ্ট হতো। বর্তমানে উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ এগিয়ে যাওয়ায় তাঁরা স্বস্তি বোধ করছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সড়কের কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শেষ করা হবে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কের পুলেরঘাট থেকে পিরিজপুর বাজার পর্যন্ত সড়ক সংস্কার ও মেরামতকাজে ১৮ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কাজের তদারকি করা হচ্ছে। কাজের বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে কিছু অভিযোগ উঠলেও সেগুলোর সত্যতা নেই বলে তিনি দাবি করেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ এপ্রিল প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, চলমান সংস্কার ও উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে যান চলাচল আরও সহজ হবে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, যাত্রীসেবা ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

.webp)

