কিশোরগঞ্জে ৩১০ শতাংশ জমি জবরদখলের অভিযোগ, প্রতিকার ও নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় সাফ-কবলা দলিলমূলে কেনা ৩১০ শতাংশ জমি জবরদখল করে রাখার অভিযোগ করেছেন করিমগঞ্জ উপজেলার কৃষক মো. মাসুদুর রহমান। এ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশের এক সদস্য ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জমির দলিল ফেরত নিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই কৃষক।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের স্টেশন রোড এলাকার সুফিয়া ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মাসুদুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাসুদুর রহমান জানান, ইটনা উপজেলার বেতেগা গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা নিহার রঞ্জন ঘোষ ও এক নারীর কাছ থেকে তাঁর দাদা ও বাবা দুই থেকে তিনটি দাগে মোট ৩১০ শতাংশ জমি আইনানুগভাবে ক্রয় করেন। জমি কেনার পর প্রয়োজনীয় খাজনা পরিশোধ ও নামজারির কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাঁরা জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
মাসুদুর রহমানের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে নিহার রঞ্জন ঘোষ ও তাঁর ছেলে বিপুল রঞ্জন ঘোষ ওই জমি পুনরায় নিজেদের দখলে রাখেন। বিপুল রঞ্জন ঘোষ বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য উল্লেখ করে মাসুদুর রহমান দাবি করেন, পুলিশের পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে তাঁকে জমি ছেড়ে দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জমির দলিল ফেরত নেওয়ার জন্যও তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইটনা উপজেলার এরশাদনগর এলাকার মো. জাকির হোসেন তাঁর লোকজন নিয়ে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আসন্ন কৃষি মৌসুমে ওই জমিতে গেলে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি মারধর করে হাড়গোড় ভেঙে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ পরিস্থিতিতে জমিতে যেতে না পারা এবং আসন্ন কৃষি মৌসুমে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান মাসুদুর রহমান।
তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাঁদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হওয়ার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন সাধারণ নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারেন, সে জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইনানুগ নিষ্পত্তি, জমিতে তাঁদের স্বাভাবিক প্রবেশ ও ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করা, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা প্রদান এবং পুলিশ সদস্য বিপুল রঞ্জন ঘোষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান মাসুদুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বাবা রুক্কু মিয়া ও ছোট ভাই উপস্থিত ছিলেন।
১৯৬১ সালের সেই অস্ত্র সমর্পণ থেকে আজকের রোহিঙ্গা সংকট: ইতিহাসের এক ছবি, অর্ধশতাব্দীর বঞ্চনা ও ভূরাজনীতির নির্মম হিসাব


.webp)
