মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে বাক-প্রতিবন্ধীর জমি জালিয়াতি: কাঠগড়ায় সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখক

  • প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ০৬:১২
  • আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ০৬:১২
WhatsApp Image 2026-09-16 at 5.59.33 PM

শাহাদুর রহমান সুজন, মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এক বাক-প্রতিবন্ধী নারীর জমি জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। লিগ্যাল গার্ডিয়ান কিংবা কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকের যোগসাজশে বেআইনিভাবে এই হেবা ঘোষণা দলিল সম্পাদন করা হয়। পুলিশি তদন্তেও এই ভয়াবহ জালিয়াতি ও প্রতারণার প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী উপজেলার খলসী ইউনিয়নের কুমুরিয়া গ্রামের মোরশেদ আলমের বাক-প্রতিবন্ধী কন্যা ঝুমা আক্তার (২৫)।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুমুরিয়া মৌজার ১৯.১০ শতাংশ জমি প্রবাস ফেরত পিতা মোরশেদ আলমের কাছ থেকে প্রাপ্ত হন ঝুমা আক্তার। অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের ২৭ জুলাই (২৭/০৭/২০২৫) তাকে ভুল বুঝিয়ে দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে আসা হয়। পরে ২নং বিবাদী দলিল লেখক ও ৭নং বিবাদী সাব-রেজিস্ট্রার তানিয়া সুলতানা প্রত্যক্ষ সহায়তায় এবং অন্যান্য বিবাদীদের প্ররোচনায় ওই বাক-প্রতিবন্ধী নারীর কাছ থেকে টিপসই ও স্বাক্ষর নিয়ে একটি হেবা ঘোষণা দলিল (নং-৯২৬) সম্পাদন করেন। একই সুযোগে ভুক্তভোগীর ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ১২ লাখ টাকাও আত্মসাৎ করা হয়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর স্বামী আইনগত পদক্ষেপ নিলে থানা পুলিশ বিষয়টি সরজমিনে তদন্ত করে। নিরপেক্ষ সাক্ষী ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে ১নং বিবাদী মোসাঃ রুমা আক্তারসহ দলিল লেখক, সাব-রেজিস্ট্রার তানিয়া সুলতানা ও অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪১৭, ৪১৮, ৪০৬, ৪২০ ও ৩৮০ ধারায় অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একজন বাক-প্রতিবন্ধী মানুষ যিনি নিজের ভালো-মন্দ বিচারে অক্ষম, কোনো আইনানুগ অভিভাবকের উপস্থিতি ছাড়াই সাব-রেজিস্ট্রার কীভাবে সেই জমি রেজিস্ট্রি করলেন? অসাধু লেনদেন ও প্রভাবশালী দলিল লেখক সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই এই বেআইনি কর্মকাণ্ড ঘটেছে বলে দাবি তাদের।

ভুক্তভোগী বাক প্রতিবন্ধী ইসরাত জাহান রিমির স্বামী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন , তার স্ত্রী কানে শুনে না,কথাও বলতে পারেনা বেআইনিভাবে আমার স্ত্রীর কাছ থেকে জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে । 

উপজেলা সাব রেজিস্টার তানিয়া সুলতানের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মানিকগঞ্জ জেলা রেজিস্টার জানান, বিষয়টি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের রায় ও মামলার অগ্রগতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Ad