অটোমেশনে কোটি টাকা ব্যয়, তবু ম্যানুয়ালেই চলছে রাজশাহী ওয়াসার পাম্প

  • প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, বিকাল ০৫:২০
  • আপডেট: ১৮ মে ২০২৬, বিকাল ০৫:২০
WhatsApp Image 2026-05-18 at 4.49.02 PM

রাজশাহী ওয়াসার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও মিলছে না প্রত্যাশিত সুফল। উত্তোলক পাম্পে অটোমেশন ব্যবস্থা চালু করা হলেও এখনো সেগুলো পরিচালিত হচ্ছে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। এতে বছর বছর বাড়ছে পরিচালন ব্যয় ও লোকসান। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন এই সংস্থাটি শুধু পানি সরবরাহ খাতেই গত কয়েক বছরে শতকোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিয়েছে বলে জানা গেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজশাহী মহানগরীতে বর্তমানে ওয়াসার ১২১টি পানি উত্তোলক পাম্প সচল রয়েছে। এছাড়া নগরীর শ্যামপুরে পদ্মা নদীর তীরে একটি ভূ-উপরিস্থ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট রয়েছে। কয়েক বছর আগে বিপুল ব্যয়ে প্ল্যান্টটি নির্মাণ করা হলেও নদীতে পানির ঘাটতির কারণে এটি বছরে মাত্র পাঁচ মাস সচল থাকে। বাকি সময় পড়ে থাকে অচল অবস্থায়।ওয়াসার পাম্প পরিচালনায় বর্তমানে ১৫৩ জন কর্মচারী ও শ্রমিক নিয়োজিত আছেন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়। সে হিসাবে বছরে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি টাকা। এছাড়া পানি উত্তোলক পাম্পে বছরে বিদ্যুৎ বিল আসে প্রায় ৯ কোটি টাকা। অথচ পানি বিক্রি করে এই ব্যয় ওঠে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে অটোমেশন প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়। একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে পাম্পগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা চালু করা হলেও তা কার্যকর করা হয়নি। অটোমেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকেই পাম্প চালু-বন্ধ, পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রুটি শনাক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এখনো পাম্পচালকরাই পাম্পঘরে বসে হাতে পরিচালনা করছেন পুরো কার্যক্রম।কর্মকর্তাদের দাবি, অটোমেশন পুরোপুরি চালু করা গেলে অন্তত ১২৫ জন পাম্পচালককে অন্য কাজে নিয়োজিত করা সম্ভব হবে। এতে ব্যয় কমবে এবং উৎপাদন সক্ষমতাও বাড়বে। তবে ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ও দক্ষ জনবলের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা ১৩ কোটি ৪৪ লাখ লিটার। এর বিপরীতে ওয়াসা সরবরাহ করছে প্রায় ৮ কোটি ৬৫ লাখ লিটার পানি। এর মধ্যে মাত্র ৯০ লাখ লিটার পানি পরিশোধন করা হয়। বাকি পানি মাটির নিচ থেকে তুলে সরাসরি গ্রাহকদের সরবরাহ করা হচ্ছে।ওয়াসার নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ৫৩ হাজারের বেশি হলেও অবৈধ সংযোগ রয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার। মহানগরীতে ওয়াসার পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য ৮৬০ কিলোমিটার। প্রতিলিটার পানি উত্তোলন ও সরবরাহে ওয়াসার খরচ হয় ৪ টাকা ৫৬ পয়সা। তবে আবাসিক গ্রাহকদের কাছে ভর্তুকি দিয়ে তা বিক্রি করা হয় ২ টাকা ২৭ পয়সা লিটারে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের প্রতি লিটার পানির জন্য গুনতে হয় ৪ টাকা ৫৪ পয়সা।রাজশাহী ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ বলেন, “অটোমেশন ব্যবস্থা রাজশাহী ওয়াসায় নতুন। তাই দক্ষ জনবল নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। ধীরে ধীরে এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় লোকবল কমিয়ে ব্যয়ও সাশ্রয় করা যাবে।”

Ad